কয়েক মাস আগে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস তার বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ব্যক্ত করেছিলেন। সেখানে তিনি বলার চেষ্টা করেছিলেন, বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হওয়া উচিত। একইসঙ্গে ইনক্লুসিভ নির্বাচন বলতে কি বোঝাতে চেয়েছেন, সেটিও তিনি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইনক্লুসিভ নির্বাচন মানে সমস্ত জনগণের অংশগ্রহণ। কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করল বা করল না, তার থেকে সব জনগণের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দিন কয়েক আগে তার অবস্থান ফের বদল করলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হওয়া জরুরি। সমস্ত রাজনৈতিক দল যেন অংশগ্রহণ করতে পারে। তবেই হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন। একইসঙ্গে ভারতও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে একই ইস্যুতে। হঠাৎ কেন ভারতের সঙ্গে হাসিনাকে ফেরাতে এক সুরে কথা বললেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি?
সোমবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতা ও প্রশ্ন উত্তর পর্বে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয় যেমন উঠে আসে, একইভাবে উঠে আসে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়। এমনকি বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। কারণ আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওপার বাংলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ভারতের বিদেশসচিব স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত যে কোনও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে রাজি ভারত সরকার। এমনকি সেই নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন ইনক্লুসিভ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে সেই বিষয়ে ভারত হস্তক্ষেপ করতে চায় না। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি লিখেছে। এই বিষয়ে ভারতের বিদেশসচিবকে প্রশ্ন করা হলে বিক্রম মিশ্রী জানান, এই বিষয়টির সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া জড়িয়ে রয়েছে। এটি নিয়ে দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তিনি জানান, এটি একটি বিচার বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং এই বিষয়গুলিকে নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতেও তৈরি। এর বাইরে এই বিষয়টিকে নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করা গঠনমূলক বলে মনে করি না। নির্বাচনে যাতে প্রত্যেকে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটাই চায় ভারত সরকার। বিক্রিম মিশ্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার নিজে থেকে নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছে, এটা ভালো লেগেছে। নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব বলে জানান তিনি। অর্থাৎ ভারত বোঝাতে চেয়েছে, আওয়ামী লীগ-সহ যাতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে। এদিকে একই কথা ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। যেখানে কিছুদিন আগেই তারা ইনক্লুসিভ নির্বাচন বলতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কথা বলেছিলেন। তবে কি পার্শ্ববর্তী বা আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে নিজেদের অবস্থান বদল করল তারা? উঠছে প্রশ্ন। তবে আদেও ঘোষিত সময় অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচন হয় কিনা, সেটাই দেখার। কারণ ইতিমধ্যেই ওপার বাংলার নির্বাচন নিয়ে নানাভাবে আলোচনা চলছে।












Discussion about this post