ভূস্বর্গ থেকে এল ভয়ঙ্কর খবর। রাজৌরিতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালীন দুই সেনা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনাটি ঘটেছে অনন্তনাগে। দুই জওয়ানের নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়েছে বাহিনী। ঘটনার পরে কেটে গিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা। এখনও তাদের খোঁজ মেলেনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ ঘনাচ্ছে রহস্য। সেনার কাছে খবর আসে, অনন্তনাগের আলান গাডোলে কোকেরনাগ সাব ডিভিশনের গভীর জঙ্গলে জঙ্গিদের একটি দল আত্মগোপন করে রয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বাহিনী সেখানে পৌছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালীন আচমকাই স্পেশ্যাল প্যারা ইউনিটের দুই জওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁদের খোঁজ করতে শুরু হয়েছে চিরুণী তল্লাশি।
চিনার কর্পস তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, ‘৬ এবং ৭ অক্টোবর মাঝরাতে অভিযান চলাকালীন দক্ষিণ কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় তীব্র তুষারঝড়ের মুখে পড়েন সেনা সদস্যরা। সেই সময়েই দুই জওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যহত হচ্ছে।’ যে জায়গা থেকে দুই জওয়ান নিখোঁজ হয়েছেন, সেই গাদোল জঙ্গলে অতীতে বড় ধরনের সংঘর্ষ এবং হামলা হয়েছে। গত বছর সেখানে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় দুই জওয়ান এবং এক সাধারণ নাগরিকের। তবে এই দুই জওয়ানের নিখোঁজের ঘটনায় জঙ্গিযোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যে রহস্যজনক তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এদিকে, ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় উধমপুর জেলার বসন্তগড়ের ধরনি টপ এলাকায় তিনজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে দেখতে পাওয়া যাওয়ার খবরে বাহিনী তল্লাশি অভিযানে নামে। কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন অব্যাহত রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। উপত্যকা জুড়ে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।
জওয়ানের নিখোঁজ হওয়ার খবরে ফেরা যাক। যে জায়গা থেকে ওই দুই জওয়ান নিখোঁজ হয়েছে অর্থাৎ, গাদোল জঙ্গলে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের দাপট আচমকাই বেড়ে গিয়েছে। এই এলাকায় তারা কিছুদিন আগে গুলি চালায়। উপত্যকার মোট আটটি জায়গাকে সেনাবাহিনী চিহ্নিত করে। এই আট জায়গায় লস্কর-ই-তৈবা এবং ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের একাধিক স্লিপার সেলের এজেন্টরা আত্মগোপন করে রয়েছে। এখানে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছিল। আচমকাই তাদের নজরে আসে, বাহিনীর দুই জওয়ান নিখোঁজ।
এলাকাটি গভীর জঙ্গলের মধ্যে থাকায় বাহিনীকে তল্লাশি চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার। যোগাযোগের জন্য ওই এলাকায় বসবাসকারী উপজাতি গোষ্ঠীর লোকেদের সাহায্য নিচ্ছে সেনাবাহিনী। উদ্দেশ্য পথের হদিশ পাওয়া। স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালায়। জইশ এবং লেটের স্লিপার সেলের খোঁজে চলে এই তল্লাশি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আবার নতুন করে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতামূলক কাজকর্ম সংগঠিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। অভিযানে স্লিপার সেলের যতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই ভারতীয়। এদের মগজধোলাই করা হয়েছে একটি কারণে। কাশ্মীরের ঠিক কোন এলাকায় নাশকতা চালালে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, সেটা একমাত্র স্থানীয়রাই জানবে। তাই, এর জন্য জঙ্গিদের পিছনে বড় টাকা বিনিয়োগ না করে স্থানীয়দের জন্য বিনিয়োগ করা লাভজনক বলে মনে করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। সব মিলিয়ে ভূস্বর্গকে ফের উত্তপ্ত করার এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post