হীরক রাজার দেশের এই দৃশ্যপটটা মনে পড়ে –
হীরক রাজা তাঁর মূর্তি উন্মোচনের জন্য রাজজ্যোতিষীর কাছে প্রশস্ত সময় জানতে চাইলে রাজজ্যোতিষী পাল্টা জানতে চান মূর্তিটি কার? শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হীরক রাজ। প্রতিক্রিয়া ছিল – একি কী শুনলেন এতক্ষণ। এত আলোচনা, কার মূর্তি সেটাই জান না। বাংলাদেশে গত দেড বছর ধরে কী না ঘটেছে। আর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সেই রাজজ্যোতিষীর ভূমিকা নিয়েছেন। যেন তিনি কিছুই জানেন না। কিছুই বোঝেন না। রাষ্ট্রপতি অন্তরালে আছেন ঠিকই। কিন্তু সব কিছুই হচ্ছে রাষ্ট্রপতি প্রচ্ছন্ন মদতে। শুনতে কেমন কেমন লাগলেও এটাই বাস্তব। কেন, সেটি একে একে তুলে ধরা যাক।
সংবিধান অনুসারে, সরকারের সুপারিশ মোতাবেক কাজ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। কিন্তু রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতা বলে তিনি তদারকি সরকারের সুপারিশ মেনে কাজ করতে বাধ্য নন। প্রথমত, তদারকি সরকারের কোনও সাংবিধানিক বৈধতা নেই। এই সরকার তো অবৈধ, দখলদার। এমন একটি সরকারের সুপারিশ মোতাবেক কাজ করতে বাধ্য নন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু। এই প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছ যে গণঅভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনী ও এবং ইউনূস চাইলেই রাষ্ট্রপতিকেও ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে। সেটা না করে তারা চুপ্পুকে তাঁর পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, তাদের বিশেষ করে মহম্মদ ইউনূসের দরকার ছিল এমন একটি লোকের যাকে বসতে বললে বসবেন, উঠতে বললে উঠবেন। এই মুহর্তে আর কোনওভাবেই বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ তৈরি হবে। তারা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন। যতদিন না সেটা হচ্ছে, ততদিন কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি সর্বশক্তিমান। তাঁর যা ক্ষমতা আগে ছিল, এখনও সেই ক্ষমতা রয়েছে। বলা ভালো, আগের থেকে আরও বেশি ক্ষমতা এখন তাঁর হাতে রয়েছে। অথচ রাষ্ট্রপতি চলছেন তদারকি সরকারের নির্দেশ মেনে।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যকলাপ এখন প্রশ্নে বিদ্ধ। একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে রাষ্ট্রপতি বকলমে জামায়াত এবং মৌলবাদীকে শক্তিগুলির হাত শক্ত করেছেন। আর অবৈধ সরকারের জমি আরও পোক্ত করেছেন। তলে তলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বন্ধ করার খেলায় মেতেছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা আসীন করেছন আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সবাই দায়ী করেছেন ইউনূসকে, জামায়াতকে। অনেকে এও বলেছন, যে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারিগর ছিল ডিপস্টেট। তর্কের খাতিরে যদি সেটা ধরেই নেওয়া যায়, তাহলে একথা বলা অযৌক্তিক হবে না যে হাসিনা-পরবর্তী সময়ে বিদেশি শক্তির জন্য বাংলাদেশের দরজা আরও উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সে কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রণতরী বাংলাদেশে ঢুকেছে। যে পাকিস্তানের এতোদিন সাহসে কুলোতে না বাংলাদেশে ঢোকার, সেই পাকিস্তানও এখন বুক চিতিয়ে বাংলাদেশে সফর করছে। পাকিস্তান সেনা প্রধান আসিম মুনির এক প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। কিন্তু কাউকে একবারের জন্য রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে কাউকে কথা বলতে দেখা যায়নি। অথচ এই রাষ্ট্রপতি চাইলে ইস্তফা দিতে পারতেন। তাহলে এই তদারকি সরকার কিন্তু প্যাঁচে পড়ে যেত। অথচ রাষ্ট্রপতিকে দেখা গেল তিনি পদের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি। আর তদারকি সরকার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের স্বার্থ পূরণ করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাষ্ট্রপতি আসলে হাসিনার সঙ্গে কার্যত বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post