মার্কিন রণতরী ইউএস ফিৎসজেরাল্ডের বাংলাদেশে যাওয়া নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। সরকারিভাবে এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর বলা হচ্ছে। শুক্রবার জাহাজটি আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা। আইএসপিআর (ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন বা আন্তঃ বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর) এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই খবর দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে থাকাকালীন সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বিএন ফ্লিটের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা পেশাগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের পাশাপাশি পারস্পরিক কার্যক্রম, পেশাগত উৎকর্ষ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবে। এর ফলে নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। ২০২২ সালেও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর একটি জাহাজ শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসেছিল। এই জাহাজটি পারমাণবিক শক্তি সম্পন্ন।
প্রশ্ন হল আইএসপিআর কেন বিবৃতি জারি করে জানাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাংলাদেশ পৌঁছানোর খবর। আসলে সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের বুকে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা আইএসপিআর শত চেষ্টা করেও ধামা চাপা দিতে পারেনি। যেমন চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন সেনার প্যারাট্রুপার অবতরণ করে। হয়েছে যৌথ মহড়া। বাংলাদেশের একটি হোটেল থেকে এক মার্কিন সেনার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এই সব ঘটনা যাতে পাঁচকান না হয় তার জন্য আইএসপিআর আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কোনও না কোনও গণমাধ্যম সেই খবর ফাঁস করেছে। ওয়েস্টিনে এক প্যারাট্রুপারের মৃত্যুর খবর ফাঁস করেছিল গণমাধ্যম। চট্টগ্রামে মার্কিন সেনাদের আসার খবরও চাপা দিতে পারেনি আইএসপিআর। তাই তারা স্বেচ্ছায় মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের বাংলাদেশ আগমনের খবর আগে থেকেই জানিয়ে দেয়। বলা হচ্ছে, এই সফর শুভেচ্ছা সফর। সত্যি কি তাই। হঠাৎ কী এমন হল যে কয়েক হাজার মাইল জলপথ অতিক্রম করে আমেরিকা সে দেশের পারমাণবিক শক্তিধর একটি যুদ্ধ জাহাজকে বাংলাদেশে পাঠালো? শুধুই কি পেশাগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের পাশাপাশি পারস্পরিক কার্যক্রম, পেশাগত উৎকর্ষ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ এসেছে মার্কিন রণতরী ইউএস ফিৎসজেরাল্ড।
আইএসপিআর-য়ের তথ্য নিয়ে একটু তলিয়ে দেখা যাক। আইএসপিআর বলছে, এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর একটি শুভেচ্ছ জাহাজ বাংলাদেশে পাঠিয়ে ছিল। কিন্তু তথ্য বলছে, ওই বছর যে জাহাজটি বাংলাদেশে এসেছিল সেটি টাগ শিপ। টাগ শিপ বলা হয় সেই সব জাহাজকে যারা বন্দর থেকে সমুদ্রে একটি জাহাজাকে টেনে নিয়ে যায়। তাছাড়া বাংলাদেশে কস্মিনকালেও এত বড় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আসেনি।
আসলে আমেরিকা মনে করে, সারা পৃথিবীর সমুদ্র পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু আমেরিকাও জানে তাদের দূর্বল জায়গা কোনটা। এত শক্তিধর হওয়ার পরেও আমেরিকার দূর্বল জায়গা বঙ্গোপসাগর। তারা মনে করে এই অঞ্চল তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির। বঙ্গোপসাগরে না আছে তাদের কোনও নজরদারি নেই। যদিও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে তারা অনেক বেশি এগিয়ে এসেছে। ইউএস ফিৎসজেরাল্ড কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজ। বঙ্গোপসাগরে তারা এমন একটি জায়গা খুঁজছিল যে জায়গায় তারা তাদের রণতরীকে রেখে নজরদারি চালাতে পারবে। সেই জায়গা সন্ধান করতেই কয়েক হাজার মাইল অতিক্রম করে ফিৎসজেরাল্ডে বাংলাদেশে আসে।












Discussion about this post