যার হাত ধরে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই বাহিনীর ২৪ জন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এই ঘটনায় বাহিনীর সঙ্গে ইউনূসের শুরু হয়ে গিয়েছে ঠাণ্ডা লড়াই। কিছুদিন ধরেই বাহিনীর সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধানের মতের অমিল হচ্ছিল। এবার সেটা কার্যত শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাল। সামরিক কর্তা বা অসামরিক কর্তাদের বিচার হয় সেনা আদালত। সব দেশের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। বাহিনীর সম্মানের কথা ভেবেই তাদের বিচার করা হয় সামরিক আদালতে। কিন্তু ইউনূস সেই পথে না গিয়ে হাঁটলে উল্টো পথে। আর যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হাসিনা আমলের। অভিযুক্তদের বিচার সেনা আইনি হবে নাকি ফৌজদারি আইনে তা নিয়ে নানা মতামত উঠে আসছে। বাহিনীর মধ্য এই নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা বহু আলোচিত আয়না ঘর মামলা, দ্বিতীয়টি টিআইএফ (টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারোগেশন)। অভিযোগ, জেরা করার নামে এই ঘরে অফিসারদের নানা ভাবে অত্যাচার করা হত। দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্বে ছিলেন পদস্থ সেনাকর্তার। কোনও কোনও মহল থেকে অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে বলা হচ্ছে, ফৌজদারি আদালতের বিচারক মনে করলে সেনাকর্মকর্তাদের বিচারের ভার সেনা আদালতের হাতে অর্পণ করতে পারেন। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটাররা দাবি করছেন, এই আইন বাংলাদেশের সমস্ত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে, কেউ সেনাবাহিনীতে চাকরিক করেন বলে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচার হবে না বা বিচার করা যাবে না, এমন কোনও বিধান নেই।
এ সব কিছুর থেকে বড় হয়ে দেখা গিয়েছে সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধানের চরম বিরোধ। কিছুদিন আগে ওয়াকার একটি আলোচনা সভায় বলেন, ‘আমাদের অফিসারদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, তা কল্পনা করতেও আমার কষ্ট হয়। আমাদের ব্রাদার অফিসারদের এই অপমানের মুখোমুখি হতে হবে আমরা এটা কীভাবে সহ্য করব ? তাদের দোষ কী? তারা যা করেছে তা তো নির্দেশেই করেছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি আমি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের কাছ থেকে এই অফিসারদের জন্য ইনডেমনিটি দাবি করব। ইনডেমনিটি না পেয়ে যাব না।’ সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সেনাপ্রধানকে নিয়ে ৫৬ জন একটি প্রতিবাদপত্র ইউনূসকে পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা তাদের মতামত এবং অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছে, সামরিক কর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্তাদের বেসামরিক আদালতে বিচার তারা মেনে নিতে পারছে না। এদিকে, ১৩ জন কর্মরত সেনা কর্তাকে বরখাস্ত করতে হলে বাহিনীর মধ্যে ছোটখাটো অভ্যুত্থান হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাহিনীর মধ্যে সেনাপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে হাসিনা থাকতে থাকতে কেন এই সব কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাহলে কি সেনাপ্রধানের এর পিছনে ইন্ধন রয়েছে? তিনিই কি চেয়েছিলেন হাসিনা আমলের এই সব সেনাকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আগে থেকে নীল নকশা তৈরি করে রেখেছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন মোক্ষম সময়ের। আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করার মত। সেটা হল এমন সময়ে তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় আনা হল যখন ইউনূস জমানা প্রায় শেষ হতে চলেছে।












Discussion about this post