ইউনূসের ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’।
যদিও ইউনূস এখন খুব একটা সুখে নেই। সুখ ছিল প্রথম প্রথম। এখন নিজের কফিনে তিনি নিজেই পেরেক পোঁতার ব্যবস্থা করছেন। সামরিক কর্তাদের বিচার হচ্ছে বেসামরিক আদালতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে থ্রি স্টার জেনারেল থেকে শুরু করে লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার অফিসারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি চলছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা পর্যন্ত জারি করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তা নিয়ে সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে মুখ খুলতে দেখা যায়। বিচারের আওতায় আনা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের অফিসারদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, তা কল্পনা করতেও আমার কষ্ট হয়। আমাদের ব্রাদার অফিসারদের এই অপমানের মুখোমুখি হতে হবে আমরা এটা কীভাবে সহ্য করব ? তাদের দোষ কী? তারা যা করেছে তা তো নির্দেশেই করেছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি আমি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের কাছ থেকে এই অফিসারদের জন্য ইনডেমনিটি দাবি করব। ইনডেমনিটি না পেয়ে যাব না।’
বেসামরিক আদালতে সামরিক কর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্তাদের বিচার নিয়ে সেনাবাহিনী নোট অব ডিসেন্ট ছিল। এই ভাবে বিচারে বাহিনী সম্মতি দিচ্ছিল না। সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া কোনওভাবেই ইউনূসের ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিল না। এখন সেই বাহিনীকে নিয়ে তিনি খেলা শুরু করেছেন। বাহিনী যে এটা কোনওভাবেই মেনে নেবে না, তার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ওয়াকার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পাঁচজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ৫০জন মেজর জেনারেল রয়েছেন। যে আদালতে খুনে অভিযুক্ত, ধর্ষণে অভিযুক্তদের বিচার হয়, সেই আদালতে সামরিক কর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্তাদের বিচার তারা যে মেনে নেবেন না, তা বলাই বাহুল্য। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা চার্জসিটের একযোগে তারা তাদের তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী সেনাবাহিনী কী পদক্ষেপ করতে চলেছে? বাহিনীর সামনে দুটি রাস্তা খোলা আছে। প্রথম রাস্তা তারা ইউনূসের থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে দেশে সেনাশাসন জারি করবে। অথবা ১/১১। বাংলাদেশে একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি হবে। যে পরিস্থিতিকে মূলধন করে বাহিনী ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তারা ক্ষমতা কেড়ে নেবে। ইংরেজিতে একটি কথা আছে ফ্রম ফ্রাইং প্যান ফায়ার। তপ্ত কড়া থেকে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় আনার মধ্যে দিয়ে ইউনূস আসলে তপ্ত কড়া থেকে আগুনে লাফ দিলেন। তপ্ত কড়ায় গা ঝলসে যায়। আর আগুনে মানুষ পুড়ে যায়। ইউনূস কার কথায় বা কার পরামর্শে বাহিনীর কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় আনার সিদ্ধান্ত নিলেন, সেটা একমাত্র ইউনূস বলতে পারবেন। তবে তিনি যে আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, সেটা বলে দিচ্ছে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ। ইউনূসের সঙ্গে যারা রয়েছেন, তারাও আর তাকে সহ্য করতে পারছেন না। তারাও মনে মনে চাইছেন ইউনূসের বিদায়। সেটা কবে হবে, তা দেখার জন্য আমাদের আরও হয়তো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে কথায় আছে, শেষের সেদিন বড় ভয়ঙ্কর। সেটা হয়তো ইউনূস নিজেও টের পেয়েছেন। তাই, তিনি এখন সেফ এগজিট খুঁজছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post