বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দফতর ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে। এর নেপথ্যে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের করা। গত বুধবারই আওয়ামী লীগের শাসনকালে সংগঠিত কয়েকটি গুম-খুনের দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রাক্তন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেন তারিক আহমেদ সিদ্দিক। তেমনই রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমান অফিসার। যা নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান-সহ প্রায় সমস্ত সেনা আধিকারিক। যদিও এমনও কয়েকজন সেনাকর্তা আছেন, যারা চাইছেন এই বিরোধ আরও তীব্র হোক।
২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের ডিজি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক। মূলত শেখ হাসিনার পতনের পর তাঁকে প্রথমে ডিজিএফআই থেকে এবং পরে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। জানা যায়, সাবেক সামরিক কর্তা হামিদুল হক আগস্টের শুরুর দিকের উত্তাল সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন। এমনকি গত বছর ৫ আগস্টের আগে কয়েকজন সেনাকর্তা নাকি জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ও সেনাপ্রধানকে সেই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক। এছাড়া ৫ আগস্টের আগে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সাবেক যে সেনা কর্মকর্তারা সরব হয়েছিলেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হামিদুল হকের। সেই হামিদুল হক আবারও জেনারেল ওয়াকারের হয়ে ব্যাট ধরলেন। তিনি দাবি করলেন, সেনাপ্রধানের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে!
বাইট – হামিদুল হক (টিসি ০০.০১ – ০০.৫৫)
জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনা-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে এই নতুন দুটি মামলা দায়ের হওয়ার পরই সরাসরি সম্মুখ সমরে নেমে গিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জেনারেল ওয়াকারের নেতৃত্বে ৫৬ জন জেনারেল এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ঘটনা দ্রুত অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে, এমনকি প্রাক্তন সেনাপ্রধান ও সেনাকর্তাদেরও ডাকা হচ্ছে। এই বিষয়টি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের ফেসবূকে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশী অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। যদিও পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের কপালে দুঃখ নাচছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক দাবি করেছেন, কেবলমাত্র সেনাবাহিনী নয়, হাসিনার আমলে দুর্নীতি, অত্যাচারে জড়িত ছিলেন পুলিশ ও প্রশানের বহু শীর্ষ কর্তাই। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন তাঁদের না ধরে সেনাবাহিনীর আধিকারিকদের টার্গেট করেছেন, এর পিছনে রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য।
বাইট – হামিদুল হক (টিসি ০২.৫৬ – ০৩.৫৭)
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে যেমন অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নেন, মুহাম্মদ ইউনূসেরও সেই অবস্থা হয়েছে। তাঁকে যারা চাপ দিচ্ছে, তাঁরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা এখন কাঁটার চেয়ারে বসে আছেন, তাই তিনি বেকায়দায় পড়েছেন। এথন দেখার, সেনাবাহিনী কি করে।












Discussion about this post