বাংলাদেশে বিশাল তোড়জোড়। সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ, আকাশে উড়ছে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার। চলছে জোরদার নজরদারি, টহল। না, কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, এমনকি কোনও যুদ্ধ মহড়াও নয়। কেবলমাত্র ইলিশ পাহারা দিতেই নাকি এই ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার।
আসলে জলের রুপালি শষ্য ইলিশ বাঁচাতে মরিয়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের ধারণা পড়শি দেশের জেলেরা নাকি বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে কাড়ি কাড়ি ইলিশ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। সেটা ঠেকাতেই নাকি এই ব্যবস্থা। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, মশা মারতে কামন দাগছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আবার কেউ কেউ দাবি করেছন, ভারতকে চমকাতেই নাকি এই রণসজ্জা বাংলাদেশের। আসুন বিষয়টা নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রজননের মরসুমে ইলিশ ধরা আটকানোর জন্যই এই ‘যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা’র বন্দোবস্ত। এরই জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে দিয়েছে বঙ্গপোসাগর সংলগ্ন মোহনার আশেপাশে। এখানেই শেষ নয়, আকাশপথেও চলবে নজরদারি। ড্রোন, হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি চালানো হবে সর্বক্ষণ। জানা গিয়েছে , হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউনূস প্রশাসন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যদি এই সময়ে কোনও মৎসজীবী ইলিশ মাছ ধরতে গিয়ে ধরা পড়েন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। বিদেশি মৎসজীবীরাও ছাড় পাবে না। উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশের প্রজনন মরশুম শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
কিন্তু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ভিন্ন। আসলে তিন দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ ‘ইউএসএস ফিৎসজেরাল্ড। উল্লেখ্য বুধবারই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে। বিগত কয়েক মাসে বাংলাদেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর তৎপরতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনও মার্কিন সেনাবাহিনী আবার কখনও বিমান বাহিনীর আধিকারিকরা ঢাকা হয়ে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাচ্ছেন। তাদের গতিবিধি কার্যত গোপনই রাখছে বাংলাদেশের ইউনুস প্রশাসন। এখন মার্কিন নৌ বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ চট্টগ্রামে ঘাঁটি গাড়লো। সম্ভবত ওই দিক থেকে নজর ঘোড়াতেই বাংলাদেশ ইলিশের প্রজনন ম মরশুমকে হাতিয়ার করে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারএই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা যেভাবে দিন দিন বাড়ছে তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট, কক্সবাজার বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই কাজের তদারকিতে অথবা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিয়ে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস ফিৎসজেরাল্ড’ বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কেবলমাত্র সৌজন্য সফরে আসেনি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ঘনিষ্ট হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ঘনিষ্ট হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির কয়েকদিন আগেই হুমকি দিয়েছিলেন যে এবার ভারতের পূর্ব প্রান্ত দিয়েও আক্রমণে যেতে পারে পাকিস্তান। এখন চট্টগ্রামে মার্কিন রণতরী নোঙ্গর করা কি অন্য বার্তা দিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post