পুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে ১২০০ টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। কিন্তু অক্টোবরের ৫ তারিখ সেই চালানের সময়সীমা শেষ হলে দেখা গেল ভারতে মাত্র ১৪৫ টন ইলিশ এসেছে। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১০৬ টন ৩৪ কেজি এবং ত্রিপুরায় এসেছে ৩৯ টন ইলিশ। যদিও গত বছর ভারতে এসেছিল ৫৩২ টন ইলিশ। ফলে এবার অর্ধেকেরও কম আর লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটাই কম ইলিশ পাঠালো বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। কিন্তু কেন এত কম ইলিশ এল ভারতে? যা নিয়ে উঠে আসছে নানা তত্ত্ব। তবে ভারতও কম যায় না। জানা যাচ্ছে, এবার বাংলাদেশে চাল রফতানি করা নিয়ে এবার শর্ত আরোপ করেছে নয়া দিল্লি। যা নিয়ে চিন্তায় সে দেশের আমদানিকারকরা। তবে চালে খড়গহস্ত হলেও ভারত কিন্তু বাংলাদেশে কাঁচালঙ্কার ঝাল পাঠানোয় উপরহস্ত হয়েছে। বাংলাদেশের ইলিশ রফতানিকারকরা ভারতে কম ইলিশ পাঠালেও ভারতের সবজি রফতানিকারকরা বাংলাদেশে টন টন কাঁচালঙ্কা পাঠিয়েছে। আর তাতেই বাঙালির হেঁসেলে কাঁচা মরিচের জোগান বেড়েছে।
মুঠো মুঠো ‘কাঁচা মরিচ’ ছাড়া লোভনীয় পদ যাঁদের মুখেই ওঠে না, সেই ওপার বাংলার হেঁসেলেই কি না মরিচের আকাল শুরু হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, সে দেশের খুচরো বাজারে কাঁচা লঙ্কার দাম নাকি কেজি প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ বাংলাদেশি টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের দ্বারস্থ হন। এরপরই বিহার-মহারাষ্ট্র থেকে কয়েকশো টন কাঁচা লঙ্কা পাঠানো হয় বাংলাদেশে। সূত্রের খবর, দুর্গা পুজো উপলক্ষে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলবন্দরগুলির কাজ প্রায় ৮ দিন বন্ধ ছিল। ফলে দু-দেশের আমদানি-রফতানিও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই সময়কালে। এরমধ্যেই বাংলাদেশ জুড়ে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় লঙ্কা চাষের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারে ‘কাঁচা মরিচ’- এর দাম চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকে। কোথাও ৪০০ আবার কোথাও ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যায় লঙ্কার দাম। অবশেষে অক্টোবরের ৪ তারিখ থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর, উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর ও অন্য কয়েকটি বন্দর দিয়ে ট্রাকে ভারতের কাঁচা লঙ্কা রফতানি শুরু হয়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ প্রায় ভারতের উপরই নির্ভরশীল। বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৯ লক্ষ টন। এর মধ্যে আতপ চাল আমদানি হবে ৯৭ হাজার মেট্রিক টন। বাকিটা সেদ্ধ চাল। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশে চাল রফতানির জন্য নতুন শর্ত বেঁধে দেয় ভারত। নয়া দিল্লি জানিয়ে দেয়, বাসমতী ছাড়া অন্য চাল রফতানিতে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বা এপিইডিএ রেজিস্ট্রেশন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে বেকায়দায় পড়ে যান ব্যবসায়ীরা। যদিও বাংলাদেশের সরকারি কর্তারা বলেন, বহু রফতানিকারকদের কাছে ওই রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। ফলে আমরা তাঁদের থেকেই চাল কিনবো। এই নির্দিশিকার জেরে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবে না।
সবমিলিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য কিছুটা নরমে-গরমে চলছে। মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা হলেও টেনে ধরেছেন। বাংলাদেশ ভারতে কম পরিমান পণ্য পাঠালেও ভারত থেকে আগের মতোই আমদানি করে চলেছে। বিশেষ করে চাল ও কাঁচা সবজির জন্য বাংলাদেশ এখনও ভারতেরই ওপর ভরসা করে থাকে। ভারতও এই ব্যাপারে খুব একটা রাশ টানেনি। তবে পোশাক শিল্পের জন্য তুলা রফতানিতে যেমন রাশ টানা হয়েছে তেমনই আবার বাংলাদেশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্য আমদানিতেও রাশ টেনেছে ভারত সরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post