জাতিসংঘের সাধারণ সভার ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে কয়েকদিন আগেই ঢাকায় ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ১০৪ জনের বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন এবং এগারোদিন সেখানে ছিলেন। এর জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নাকি প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলেই জানা যায়। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের এই লম্বা সফর থেকে বাংলাদেশের কি লাভ হল সেটা নিয়ে যখন বাংলাদেশে আলোচনা চলছে, তখনই সামনে হল এক বিস্ফোরক তথ্য। জাতিসংঘের সাধারণ সভার পর পরই জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ৬০তম অধিবেশন বসেছিল জেনেভার সদর কার্যালয়ে। গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স নামে জাতি সংঘের ওই অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে মানবাধিকারের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স তাঁদের প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, “বাংলাদেশে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় একশ জন অংশগ্রহণকারী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ওই সেমিনারে বিভিন্ন বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দমন, নির্বিচারে গ্রেফতার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধের মাধ্যমে মৌলিক মানবাধিকার নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বক্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সমস্যাগুলি সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান। উল্লেথ্য ওই সেমিনারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে গণহত্যা নিয়ে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল তাতে স্বচ্ছতার অভাব এবং সম্পাদকীয় ত্রুটি ছিল। গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহম্মদ হাবিবে মিল্লাত দাবি করেছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের সম্পাদকীয় মানদণ্ড অনুসারে সম্পাদনা করা হয়নি। তিনি এই প্রশ্নও তোলেন, যদি প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের সম্পাদকীয় নির্দেশিকা অনুসারে সম্পাদনা না করা হয়, তাহলে কেন এটি প্রকাশিত হয়েছিল?
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সরেজমিনে তদন্ত করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে, তা নিয়ে সেই সময়ই প্রশ্ন উঠেছিল। খোদ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের তরফে দাবি করা হয়েছিল জাতিসংঘের রিপোর্ট মুহাম্মদ ইউনূসের ইচ্ছানুযায়ী তৈরি হয়েছে। এতে সত্যতার ছিঁটেফোঁটা নেই। এমনকি বাংলাদেশের কয়েকজন ছাত্র নেতাও সেই সময় বেফাঁস বলে ফেলেছিলেন, ওই রিপোর্টটি তাঁরাই তৈরি করে দিয়েছেন। এবার জাতিসংঘেররই শাখা সংগঠন সেই দাবির মান্যতা দিয়ে দিল।
গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই কার্যত মুহাম্মদ ইউনূসের মুখোশ খুলে গেল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, নিউ ইয়র্কে বসেই মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছিলেন বাংলাদেশ নিয়ে গুজব ও ভুয়ো সংবাদ ছড়াচ্ছে ভারত। কিন্তু এবার তাঁর সেই দাবিই কার্যত নস্যাৎ হয়ে গেল জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্টেই। ধীরে ধীরে মুহাম্মদ ইউনূসের মুখোশ খুলতে শুরু করেছে। তাঁর মিথ্যার বেসাতি বন্ধ হতে বসেছে। ফলে ক্রমাগত তাঁর বিপদ বাড়ছে। অন্যদিকে এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে আওয়ামী লীগ এবার ইউনূসের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post