এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অবশিষ্টজনেরাই বিশিষ্টজন হয়ে বসে আছেন। সেটা মুহাম্মদ ইউনূস হোক বা তার সরকারের উপদেষ্টারা। আবার ছাত্রনেতারা হোক বা জামাত-বিএনপি-সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিএনপি এখনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ। আওয়ামী লীগের অবর্তমানে যারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। বাকি রইল জামায়তে ইসলামী, গণ অধিকার পরিষদ বা কয়েকটি রাজনৈতিক দল, যাদের মোট ভোটার সংখ্যাই এক থেকে চার শতাংশের মধ্যে। এক্ষেত্রে বিএনপি একমাত্র বড় দল, কিন্তু তাদের শীর্ষ নেতারা কার্যত অন্তরালে, অর্থাৎ বাংলাদেশের বাইরে। ফলে অবশিষ্টজনেরা, বা দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর নেতৃত্ব এখন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এরমধ্যে মুহাম্মদ ইউনূসও একজন। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই যেন তাঁরা অবাঞ্ছিত হয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে। আর সেই কারণেই আওয়াজ উঠছে সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মুহাম্মদ ইউনূস কি কোনও সেফ এক্সিট খুঁজছেন? উত্তর হল হ্যাঁ, তিনিও খুঁজছেন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূসের পালানোর পথ কার্যত নেই। তার শেষ ভরসা, ভারত ও আওয়ামী লীগ। যে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে উৎখাত করা স্বপ্ন দেখছে জামাত, এনসিপি ও বিএনপি। ইউনূস সাহেব তাদেরই পিঠে ছুরি মারতে উদ্যত। একটি মহলের দাবি সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন তিনি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত। নরও য়ে ডেনমার্ক ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা ওই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ঢাকার বাসভবনে বৈঠক করেন। প্রথমে ব্যাপারটি কেউ বুঝতে না পারলেও পরবর্তী ক্ষেত্রে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন কেন এই তিন দেশেরই রাষ্ট্রদূত উদ্যোগী হলেন? নরওয়ের সংস্থা টেলিনর বাংলাদেশ গ্রামীণ টেলিফোনের সঙ্গে ব্যবসা করে।
সদ্যই বাংলাদেশ সফর করেছেন টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার। বাংলাদেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর তথা ইউনূসের মালিকানাধীন সংস্থা গ্রামীণ ফোনের অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম হল টেলিনর। বলা হচ্ছে, বেকায়দায় পড়ে মুহাম্মদ ইউনূস ফের নরওয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যবসায়ীক লেনদেনের সঙ্গে নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক মুখ্য ভূমিকা নিয়ে থাকে। মূলত এই তিন দেশের তদ্বিরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। এবারও সেই তিন দেশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। যখন সরাসরি ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন, তখন ঘুরপথেই তিনি ভারতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টায় রয়েছেন। এমনটাই মানে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
উল্লেখ্য, এর আগে আমরা দেখেছি, কিছুটা অযাচিতভাবেই মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার নয়া দিল্লি-সহ কলকাতা ও আগরতলায় ঝুড়িভর্তি হাঁড়িভাঙা আম পাঠিয়েছিল। অনেকেই মনে করছিলেন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে হাসিনার কৌশলেই আস্থায় রেখেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। ফলে এই আম কূটনীতি নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা। আবার দুর্গোৎসবের আগে ১২০০ টন ইলিশ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইউনূস সরকার। যদিও এতটা ইলিশ আসেনি, তবুও উদ্যোগ ছিল আন্তরিকতায় পূর্ণ। আবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ৫০০ কেজি সুগন্ধি চিনিগুড়া চাল পাঠিয়েছিল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এটাও ছিল কূটনৈতিক কৌশলের অংশ। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, একদিকে সরাসরি ভারতকে উপহার পাঠিয়ে একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা যেমন মুহাম্মদ ইউনূস করছেন, তেমনই ভারতের দাবি মেনে আওয়ামী লীগকে ফের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের সাহায্য চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা। আর সেই কারণেই ওই তিন দেশের রাষ্ট্রদূতের আওয়ামী নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে কার্যত চুপ ইউনূসের প্রশাসন। আসলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ভারতের কাছে সেফ এক্সিট চাইছেন।












Discussion about this post