গত বুধবার বাংলাদেশের প্রাক্তন সাংসদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে পেশ করার সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন সামনে তো নির্বাচন। আপনি কি অংশ নেবেন? প্রশ্নের উত্তরে পলক প্রথমে মাথা নাড়েন। পরে বলেন – ‘সব কিছুর একটা শেষ আছে’
টেক টু
সম্প্রতি ‘নাহিদ একাত্তর টেলভিশন’ –কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, অনেক উপদেষ্টা তাঁদের নিজেদের আখের গুছিয়েছেন অথবা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিট্রে করেছেন। যখন সময় আসবে আমরা তাদের নাম ফাঁস করব। তাঁরা সেফ এগজিকেট কথা চিন্তুাভাবনা করছেন।
টেক থ্রি
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে ডক্টর ইউনূসের দমননীতির অস্ত্রে পরিণত করা উচিত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের বরং মনযোগ দেওয়া উচিত নিরাপদ এবং অংশগ্রহণমূল নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।
তিনটি বক্তব্যের বয়ানে শব্দের ফারাক থাকলেও মূল সুর কিন্তু সরকার –বিরোধী। তবে মিডিয়ার সব আলো শুষে নিয়েছেন জুনাইদ আহমেদের বিবৃতি। সব কিছুর শেষ আছে এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে হাসিনার প্রাক্তন মন্ত্রী বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, ইউনূস সরকারেরও পতন অবসম্ভাবি। সেটা আজ হোক বা কাল।
কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী নুরুল মাজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে মৃত্যু। সোশ্যাল মিডিয়া একটি দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে প্রাক্তনমন্ত্রীর অবস্থা সঙ্কটজনক। অথচ তার হাত হাতকড়া দিয়ে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। বিশ্বের প্রথম সারির গণমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকা সংস্থা কড়া ভাষায় ইউনূস সরকারের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, অপরাধি আদালতে অভিযুত্ত প্রমাণ হলেও তাঁর মানবাধিকারকে কোনওভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। নুরুল মাজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হতেই পারতেন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। তর্কের খাতিরে যদি এটা ধরে নেওয়া যায় তিনি রাজনৈতিক অপরাধী, তাহলেও তাঁর সঙ্গে এমন কোনও আচরণ করা যাবে না যেটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমতুল। মানবিধকার সংগঠনগুলি বিশ্বাস করতে চাইছে না বা বলা ভালো বিশ্বাস করতে পারছে না যে নুরুল মাজিদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঠিক। কিন্তু তাঁর কোনও চিকিৎসাই হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই দৃশ্য থেকে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্পষ্ট হচ্ছে এটাও যে তদারকি সরকার যে সব আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করছে, তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমের দৌলতে সেই সব ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। নুরুলের ঘটনায় জেল আধিকারিক জানিয়েছে, জেল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। একজন বন্দির ক্ষেত্রে যে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) মেনে চলা হয়, আওয়ামী লীগের ওই নেতার সঙ্গে সেই পদ্ধতি বজায় ছিল। কোনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।
তদারকি সরকারে অধীনে থাকা জেল আধিকারিকের বয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেন। আসলে যে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে, সেই সরকারের আমলে জেল আধিকারিকের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যগুলি তো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকারের চরম অবহেলার কারণে প্রাক্তন এক মন্ত্রীকে বেঘোরে মরতে হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post