১৯৭৩-য়ের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংশোধন করা হয়েছে। সেই সংশোধনের মধ্যে রয়েছে কারও বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপারাধে চার্জ গঠন হলে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কোনও স্বশাসিত এবং আধা সরকারি সংস্থায় কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। অভিযুক্তরা সরকারি চাকুরিজীবি হলে তাদের বরখাস্ত করা হবে। আয়নাঘর মামলায় অভিযুক্ত ১২ অফিসারের মধ্যে চারজন কর্মরত। তাদের মধ্যে দুজন মেজর এবং দুজন ব্রিগেডিয়ার। দুই মেজর জেনারেল হলেন কবির এবং মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার। দুই ব্রিগেডিয়ার হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজাদ। নাম আছে কর্নেল মোমেনের। অন্যদিকে, টিএফআই মামলায় অভিযুক্ত ১২জনের মধ্যে নয়জন কর্মরত। এরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজাদ, কর্নেল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল সুমন।
প্রশ্ন উঠছে, এদের বাঁচাতে সেনাপ্রধান কি কিছু করছেন। কারণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনের মধ্যে দিয়ে যা করেছেন, তার প্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে, যাদের কর্মরত বলা হচ্ছে, তারা কাজ হারিয়েছেন। তাদের কাজ কীভাবে ফেরাবেন সেনাপ্রধান? দিন কয়েক আগে সেনার একটি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে বলতে শোনা যায় – ‘আমাদের অফিসারদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, তা কল্পনা করতেও আমার কষ্ট হয়। আমাদের ব্রাদার অফিসারদের এই অপমানের মুখোমুখি হতে হবে আমরা এটা কীভাবে সহ্য করব ? তাদের দোষ কী? তারা যা করেছে তা তো নির্দেশেই করেছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি আমি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের কাছ থেকে এই অফিসারদের জন্য ইনডেমনিটি দাবি করব। ইনডেমনিটি না পেয়ে যাব না।’
কিন্তু তাঁর রাস্তা কোথায়? কীভাবেই বা সেনাপ্রধান তাঁর প্রাক্তন এবং কর্মরত সহকর্মীদের রক্ষা করবেন। উত্তরপাড়া সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকার সম্প্রতি বাহিনীর কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এই নিয়ে কথা হয়। যদিও বাহিনীর এতজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাসদস্যদের গ্রেফতারের ঘটনায় জেনারেল ওয়াকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তরুণ কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, তাদের অভিভাবক কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাদের মধ্যে একটা চাপা আতঙ্কা কাজ করছে। তাদের মনে হয়েছে, সেনাপ্রধান তাদের রক্ষা করতে পারবেন না। বাহিনীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তাই, তারা বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যদের সম্মানের সঙ্গে উদ্ধার করা। একটা মত উঠে আসছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এই মামলা সেনা আদালতকে হস্তান্তর করবে। যদিও সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরদের দাবি, এই আইন বাংলাদেশের সব নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই, কেউ সেনাবাহিনীতে চাকরি করে থাকলেও অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচার করা যাবে না বলে কোনও সংস্থান নেই। যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে, সেনাপ্রধান ওয়াকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহিনীতে অভ্যুত্থান ঘটলে সবার আগে তাঁকে নিশানা করা হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post