একটি দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান কত বড় বিশ্বাসঘাতক হতে পারেন, তার তাজা-টাটকা নিদর্শন ওয়াকার-উজ-জামান। যার দৌলতে তিনি বাহিনীর দায়িত্বভার তুলে নিয়েছে, সেই হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। এবার করলেন বাহিনীর সঙ্গে। একসঙ্গে ২৪ সেনাকর্তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। এর পিছনে অনেকেই তার চাল দেখতে পাচ্ছেন।
কিছুদিন আগে তাকে বলতে শোনা যায়, সেনাবাহিনী বাদে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থায় যে সব সেনাকর্মকর্তা দায়িত্বে আছেন, তাদের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা নিয়মবহির্ভূত কোনও কাজ করে থাকলে সাজা পেতে হবে। শেখ হাসিনা জমানায় ওই অফিসারেরা সরকারের কথায় নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ। আর এই নিয়ে সেনাবাহিনীতে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেটা এতটাই যে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে জরুরী বৈঠক ডাকতে হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন প্রবীণ লেফটেন্যান্ট এবং মেজর জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁরা তাদের অসন্তোষ জানিয়ে দেন। আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, জেনারেলের ভূমিকায় তারা একেবারেই অসন্তুষ্ট।
জানা গিয়েছে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত করার পিছনে সেনাপ্রধানের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল। আর সেটা করতে গিয়ে নিজের প্যাঁচে নিজেই জড়িয়ে গিয়েছেন। কারণ, ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হচ্ছে, চাকরি থেকে তাঁদের বরখাস্ত করতে হলে সেনাপ্রধানকেই করতে হবে। তার সুপারিশ মেনে বিজ্ঞপ্তিতে সই করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ২৪ জন সেনাকর্তার মধ্যে ১৩ জন কর্মরত। তাদের বরখাস্ত করলে তিনি যে ‘সিপাহী বিদ্রোহ’-য়ের মুখোমুখি হবেন, সেটা তিনি ভালোই জানেন। ফলে, ওয়াকার এখন পড়েছে ভয়ানক সমস্যায়। বাহিনীর মধ্যে তাকে নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নানা ধরনের অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে ওয়াকারকে পড়তে হচ্ছে। তাঁর কাছে বাহিনীর অনেকেই জানতে চাইছেন, যদিও এই সব সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে গুমখুন, হত্যা সহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে এতোদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাহিনীর প্রধান হিসেবে তাঁর হাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল করতে পারতেন। সেটা তিনি করেননি। চাকরি থেকে তিনি তাদের বরখাস্ত করতে পারতেন। সেটাও তিনি করেনি। তাদের সেনা আদালতে বিচারের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে। সব দেশেই সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। বাহিনীর অধস্তন কর্মী থেকে শুরু করে বাহিনীর প্রধানকে দেশবাসী সম্মানের চোখে দেখেন। আর বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকারের বদান্যতায় বাহিনীর শুধু সম্মান হানি হয়নি। দেশবাসীর কাছে বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। আজ যাদের বিরুদ্ধে গোছা গোছা অভিযোগে মামলা রুজু করে বিচার শুরু হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তো হাসিনা থাকতে থাকতেই কোর্ট মার্শাল করা যেত। কেন ওয়াকার সেটা করেননি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কিন্তু একটা গান ইতিমধ্যে গাইতে শুরু করেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরেরা দাবি করছেন, এই আইন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে, কেউ সেনাবাহিনীতে কাজ করেন বলে, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থা নিতে পারবে না, এমনটা নয়। অনেকেই মনে করছে, চব্বিশজন অফিসারেক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করা নিয়ে বাহিনী দ্বিধাবিভক্ত। ফলে, বড় ধরনের অশান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকী অনেকে সরাসরি সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। সেনাপ্রধানের ভারতে আসার কথা। কিন্তু বাহিনীকে কেন্দ্র করে নতুন যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে ওয়াকার উজ জামানের দিল্লি সফর প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post