প্রতিবেদন শুরু করার আগে একটি তথ্য পেশ করা যাক। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বাংলাদেশকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে দেশটির স্থান ছিল ৬৮ তম। আর চলতি বছর সেখান থেকে নেমে গিয়েছে ৯৪তে। বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন এবং ইরিত্রিয়া। এই সূচক শুধু ভ্রমণস্বাধীনতার সূচক নয়, এই সূচক বৈশ্বিক ভাবমূর্তি, অর্থনৈতিক স্থিতি এবং অভিবাসন নীতির প্রতিফলনও বটে। তথ্য থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের অবস্থা কতটা শোচনীয় হয়ে গিয়েছে।
এই তথ্য তুলে ধরার কারণ, বাংলাদেশিদের বহুদেশের ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক দেশ ভিসা ইস্যু করতে চাইছে না। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের প্রতি অবিশ্বাসের বৃত্ত দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। নেপালের মতো ছোট্ট একটি দেশও এখন ভিসা দিতে চাইছে না। যে সব দেশে গেলে ভিসা অন অ্যারাইভ্যালের সুযোগ ছিল, সেই সব দেশে বিমান থেকে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে ফিরতি বিমানে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘কোনও দেশ ভিসা দিতে অস্বীকার করলে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা শুধুমাত্র তাদের অনুরোধ করতে পারি।’ পশ্চিম ইউরোপের সব দেশের ভিসা অফিস দিল্লিতে। ফলে, ভিসা পেতে গেলে প্রথম তাদের ভারতে আসতে হবে। কিন্তু ভারতও ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দেওয়া হচ্ছে মেডিক্যাল ভিসা। তাও সামান্য ত্রুটি পেলেই অফলোড করা হচ্ছে। ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য ভিসা দেওয়া হলেও তাদের ম্যারাথন জেরার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পূর্ব ইউরোপের যে সব দেশের ভিসা অফিস ঢাকায় রয়েছে, তারা ভিসা ইস্যু করছে। আবুধাবি, দুবাই ভিসা বাংলাদেশিদের ভিসা দিতে অস্বীকার করছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেলজিয়াম। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় সুইৎজারল্যান্ড দূতাবাস থেকে বেলজিয়ান ভিসা ইস্যু করা হত। এখন ওই ভিসা পেতে গেলে দিল্লি আসতে হবে।
পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে বাংলাদেশে ভিসা অফিস তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই তাদের এই ধরনের কোনও পরিকল্পনা নেই। অদূর ভবিষ্যতেও হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে তদারকি সরকারে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ১৯টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন। কার্যত তাদের হাত জোর করে বলেন, তারা যেন তাদের ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে ঢাকায় সরিয়ে নিয়ে যায়। ইউনূসের আবদনে সাড়া দিতে তারা অস্বীকার করেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫-য়ের মধ্যে ভারত, কাতার, মিশর, ভিয়েতনাম, দুবাই, বাহরিন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। থাইল্যান্ত ভিসা ইস্যু করতে সময় নিচ্ছে প্রায় দেড় মাস। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেটা আড়াই মাসও হয়ে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরে ভিসা রিজেকসন দিনের পর দিন বাড়ছে। মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে কোনও বাংলাদেশি অবতরণ করলেই তাকে ফিরতি বিমানে তুলে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য দায়ী দালালচক্র। তারা কাজের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষকে টুরিস্ট ভিসা ভিন দেশে পাঠিয়ে দেয়। অনেক পর্যটক মালয়েশিয়া বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে গিয়ে আর দেশে ফেরে না। অনেকে আবার অবৈধভাবে লিবিয়া বা ইউরোপের পথে অবৈধভাবে পাড়ি দেন। বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের মতে, দালালদের জন্য বিদেশি কর্তৃপক্ষের চোখে বাংলাদেশি পাসপোর্টকে অবিশ্বস্ত করে তুলেছে।












Discussion about this post