রাজনীতি, তা জাতীয় হোক বা আন্তর্জাতিক – চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু হয় না। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর দিলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। এই আলোচনা বাংলাদেশকে নিয়ে। নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একসময় যারা তদারকি সরকারের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন, তাঁরা এখন সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি ‘নাহিদ একাত্তর টেলভিশন’ –কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টা তাঁদের নিজেদের আখের গুছিয়েছেন অথবা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিট্রে করেছেন। যখন সময় আসবে আমরা তাদের নাম ফাঁস করব। তাঁরা সেফ এগজিকেট কথা চিন্তুাভাবনা করছেন। ’ তিনি এও বলেন, উপদেষ্টাদের বিশ্বাস করাটা তাদের বড় ভুল। তাদের আস্থায় রেখে তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা প্রতারিত হয়েছেন। কিছু উপদেষ্টা তাদের আস্থার প্রতিদান না দেওয়ায় তাদের বড়ো ক্ষতি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, অনেক উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজো করে রেখেছেন। তারা এখন নিজেদের সেফ এগজিট নিয়ে ভাবছেন। অথচ তাদের মনে রাখা উচিত ছিল তাদের নিয়োগকর্তা হল গণঅভ্যুত্থানের শক্তি –সেই সাধারণ মানুষ যারা রাজপথে নেমেছিল, জীবন দিয়েছে।
অথচ এই নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে তদারকি সরকারের থেকে মন্ত্রক উপহার পেয়েছিলেন। নাহিদ ইসলামকে দেওযা হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। আর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে দেওয়া হয়েছিল ক্রীড়া মন্ত্রকের দায়িত্ব। কিন্তু নাহিদ ইসলাম পরে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন। মাহফুজ আলমকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব থেকে নজর কাড়ার মতো বিষয় হল নাহিদ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেও রয়ে গিয়েছে তাঁর দুই প্রাক্তন সহযোদ্ধা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ। তাহলে নাহিদের বক্তব্যের সঙ্গে এই দুইয়ের পদত্যাগ না করার বিষয়টি তো মিলছে না। কারণ, নাহিদ বলেছেন অনেক উপদেষ্টা তাঁদের নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাদের বিশ্বাস করাটা বড় ভূল ছিল। তাদের আস্থায় রেখে তিনি এবং তাঁর সহযোদ্ধারা প্রতারিত হয়েছেন। কিছু উপদেষ্টা তাদের আস্থার প্রতিদান না দেওয়ায় তাদের বড় ক্ষতি হয়েছে। তাহলে কি এই বক্তব্য একা নাহিদের? তাহলে কি নাহিদের সঙ্গে তাঁরা সহমত পোষণ করে না। একাত্তর টেলিভিশনের তরফ থেকে নাহিদকে প্রশ্ন করা হয়, ছাত্রদের উপদেষ্টা করা ভুল ছিল কি না ? জবাবে নাহিদ বলেন, তাঁরা সরকারে না থাকলে এই সরকার বেশদিন টিকত না। নাহিদের যে মন্তব্য সব থেকে বিস্ফোরক তা হল রাজনৈতিক দলের নেতারা উত্তরপাড়ার (ক্যান্টমেন্ট) সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। খটকা এখানেই।
নাহিদ কিন্তু একবারের জন্য বলেননি কোন কোন দলের নেতারা ক্যান্টনমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন? তাহলে বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় কোনও অভ্যুত্থানের নীল নকশা তৈরি করেছেন। এই বিস্ফোরক বয়ান এল এমন একটা সময় যখন সেনাবাহিনীর প্রায় দুই গণ্ডা সদস্যকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। আর এই নিয়ে বাহিনীর মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও নাহিদ বলেন, তারা বা তাদের কোনও প্রতিনিধি বাহিনীর কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি। নাহিদের কথায়, ৫ অগাস্ট ক্যান্টনমেন্টে যারা সেজদা দিয়েছেন, তারা রাজনৈতিক ছাত্ররা নয়। ছাত্র সমাজ আজও জনগণের পক্ষে আছে। কিন্তু কিছু সুযোগসন্ধানী উপদেষ্টা সেই শক্তিকে দূর্বল করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post