ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে ফ্রম ফ্রাইং প্যান টু ফায়ার। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় তপ্ত কড়া থেকে আগুনে ঝাঁপ। তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস সেটাই করলেন। তপ্ত কড়া থেকে আগুন ঝাঁপ দিলেন। প্রায় এক ডজন সেনা অফিসারকে বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। আর এই নিয়ে সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন সাপে নেউলে। এমনকী সেনাবাহিনীর মধ্যেও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার কারণ প্রধানত দুটো। প্রথম কারণ, সেনার সাহায্যে তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। আর সেই বাহিনীর প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। দ্বিতীয় কারণ, কোনও সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার বিচার হয় সেনা আদালতে। কিন্তু বাংলাদেশের এই ২৩ জন সেনাসদস্যের বিচার হচ্ছে এমন আদালতে, যে আদালতে একজন সাধারণ অভিযুক্তের বিচার হয়। ফলে, বাহিনী এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। কিছুদিন আগে সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর অসন্তোষ বা ক্ষোভের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
ওয়াকারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের অফিসারদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, তা কল্পনা করতেও আমার কষ্ট হয়। আমাদের ব্রাদার অফিসারদের এই অপমানের মুখোমুখি হতে হবে আমরা এটা কীভাবে সহ্য করব ? তাদের দোষ কী? তারা যা করেছে তা তো নির্দেশেই করেছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি আমি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের কাছ থেকে এই অফিসারদের জন্য ইনডেমনিটি দাবি করব। ইনডেমনিটি না পেয়ে যাব না।’
সেনা সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেনাপ্রধান-সহ বাহিনীর ৫৬ জন কর্মকর্তা একটি প্রতিবাদ পত্র লিখেছেন। যেখানে তারা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সহকর্মীদের সাধারণ আদালতে বিচার তারা মেনে নিতে পারছেন না। সূত্রটি এও জানিয়েছে, চার থেকে পাঁচ সেনাকর্তা ওয়াকারকে বলেছেন, তিনি যেন দ্রুত কোনও পদক্ষেপ করেন। দরকার হলে তারা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করে ক্ষমতা হস্তান্তরের আর্জি জানাবেন। প্রয়োজনে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। ইতিমধ্যে ওয়াকার তাঁর কোরকমিটির সদস্যদের সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক করেন। অনেকে বলছেন, এই সেনাকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার পিছনে সেনাপ্রধান কলকাঠি নেড়েছেন। সেনাপ্রধান বলছেন, যারা নির্দোষ তাদের জন্য তিনি পদক্ষেপ করবেন। কিন্তু নিছক অভিযোগের ভিত্তিতে কী এই ২৩ জন সেনাকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে? আন্তর্জাতিকমহল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যদি এই সব সেনাকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে বলে, তাহলে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে তাদের সামনে প্রমাণ পেশ করতে হবে। সুতরাং, এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ২৩ জন সেনাসদস্যকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে বিচার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই সেনাকর্তাদের মধ্যে অনেকেই গুম খুনের মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িত। যদিও একটা মত উঠে আসছে, তারা যে কাজই করে থাকুক না কেন সেটা কারও না কারও নির্দেশ মেনেই তাদের করতে হয়েছে। তাহলে মারতে মারণ সানাইদার মানে বাহিনীর এই সব কর্তাদের কেন বিচারের আওতায় আনা হল?। দোষ তাদের একার নয়।












Discussion about this post