কিছুদিন আগেই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছিলেন, বেশ কিছু উপদেষ্টা সেফ এগজিট খুঁজছে। এরপর এই বিষয়টি যেন উপদেষ্টারা নিজেরাই জিইয়ে রেখেছেন। তারাই একরকম ময়নাতদন্ত করছে সেফ এক্সিট নিয়ে। আর এটা এমন একটা সময় হয়েছে, যখন সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্বস্তি বেড়েছে সরকারের। যেখানে মনে হচ্ছে, ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে কিছু একটা ঘটতে পারে। সেনাবাহিনী ইউনূস সরকারের পতনের কারণ হতে পারে। অনেকেই আবার বলছেন, এই সরকার আর বেশিদিন নেই। এরমধ্যে খবর, শেখ হাসিনার সঙ্গে উপদেষ্টারা কেউ কেউ যোগাযোগ রাখছেন। এটা একেবারে পরিষ্কার, যে ইউনূস সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন হবে। তারা শক্তিশালী দল হিসাবে উঠে আসবে। অনেকেই আবার বলছেন, অন্তব্রতী সরকার গড়ার আগে এই ছাত্র নেতারাই বেছে বেছে উপদেষ্টা পদে বসিয়েছিল। এখন তাদের উপরই ক্ষিপ্ত গণ অভ্যুত্থানে থাকা প্রথম সারির নেতারা?
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বেশ কিছু উপদেষ্টা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সবথেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতি ইসলামী এবং এনসিপি। এখন প্রশ্ন, নাহিদ ইসলাম যাদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা বলছেন, তারা কি শুধুই জামাত এবং বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন? এনসিপির সঙ্গে রাখছে না? নাকি তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করছেন? অন্যদিকে হঠাৎ করে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মন্তব্য করেন, তিনি সেফ এগজিট খুঁজছেন না। এমনকি তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামকে বলতে হবে, কোন কোন উপদেষ্টার কথা তিনি বলছেন। অনেকেই বলছেন, তবে কি তিনি বুঝে গিয়েছেন, নির্বাচিত হয়ে কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে? সেই সরকার তাকে বা তাদের মাথায় তুলে রাখবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সেফ এক্সিটের প্রঙ্গটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন নয়। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত একটি তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। ঠিক যেমনটা সেনা সমর্থিত মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সময় ওই তদারকী সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে ২ বছর ক্ষমতায় ছিল। তখনও উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের প্রসঙ্গ ওঠে। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে বেশিরভাগ বিদেশে পাড়ি দেয়। এখনও তাদের দেখা যায় না। অথচ সেই সরকার ছিল যথেষ্ট প্রতাপশালী একটি সরকার। তারা কিছু ভালো কাজও করেছিল। অনেকেই বলছেন, ৫৪ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাসে সবথেকে দুর্বল সরকার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এক এগারোর প্রবল প্রভাবশালী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সহ সেই সময়কার সেনাপ্রধান বাধ্য হচ্ছেন বিদেশে নির্বাসিত সরকার কাটাতে। শুধু তাই নয়, তারা ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে চাইলেও, শেষমেশ তড়িঘড়ি নির্বাচন নিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেটা থেকে তারা কি শিক্ষা নিচ্ছে না? এদিকে আবার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, যাদের একাধিক পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব নেওয়া তারাই অন্যদের সেফ এগজিটের তালিকা করে। যারা ৫ই অগাষ্ট পালিয়ে ছিল, তাদের সিমপ্যাথাই জাররা কষ্টে মরে যাচ্ছে। বারবার ফ্যাসিস্টদেরই পালাতে হবে। আমাদের জন্ম এ দেশে, মৃত্যু এ দেশের মাটিতেই হবে ইনশাল্লাহ। ফ্যাসিস্ট, খুনিদের সঙ্গে লড়তে লড়তে আমার ভাইদের মতো শহীদি মৃত্যু কামনা করি। কেউ কেউ বলছেন , যাদের হাতে পাসপোর্ট রয়েছে, তারা পালিয়ে কোথায় যাবেন? একমাত্র তাদের পথ পাকিস্তান। এছাড়া তারা অন্য কোনও দেশে দেশে যেতে পারবেন না। তবে সেফ এগজিটের পাশাপাশি ২০০৭-২০০৮ এর কথাও উঠে আসছে। এমনকি সেনাবাহিনী ইউনূস সরকারের পতনের কারণ হবে না তো? এই প্রশ্নও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post