হঠাৎ করে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ এই সতর্কতা কেন? তবে কি দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনও ঘটনা ঘটার আঁচ পেয়েছে প্রশাসন? যদিও সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক একটি চক্র বিমানবন্দরে নাশকতার ছক কষছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আওয়ামী লীগের নেতাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছে সরকার? সেই কারণেই এই তৎপরতা?
গত সপ্তাহে বাংলাদেশের সমস্ত বিমানবন্দরে হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। তবে এই খবরটি এসেছে প্রায় এক সপ্তাহ পরে।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সম্প্রতি সাইবার হামলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশে বিমান পরিবহন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে সত্রকতা জারি করা হয়েছে। এর জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সেগুলি হল, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, সন্দেহজনক ই-মেইল ও লিঙ্ক থেকে বিরত থাকা, সফটওয়্যার ও অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট রাখা, পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করা, অফিসিয়াল ডিভাইসে ব্যক্তিগত অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বা এমএফএ ব্যবহার। এছাড়াও কোনও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যা তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বেবিচকের সিএএবি সার্ট টিম, আইটি বিভাগ এবং জাতীয় সাইবার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিমকে জানাতে হবে।
বেবিচক সূত্রে খবর, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, লন্ডনের কয়েকটি বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান পরিচালনা বন্ধ করতে হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশও আগাম সতর্কতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু প্রশ্ন, আদেও বাংলাদেশের আশঙ্কা কাদেরকে কেন্দ্র করে? আন্তর্জাতিক কোনও বিষয়কে নাকি দেশীয়? বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাইবার হামলা হতে পারে। বাংলাদেশের মত ছোট্ট একটি দেশে কোনও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র সাইবার হামলা কি চালাতে পারে? নাকি এর সঙ্গে দেশীয় কোনও মহলের যোগসাজশ রয়েছে? যদি থেকে থাকে, তবে সরকারের উচিত জনগণকে জানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা জারি করা। তাতে দেশের মানুষও সতর্ক থাকবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, আওয়ামী লীগের কোনও নেতা কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন? কারণ অনেকে এখনও দেশের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছেন। সেক্ষেত্রে সরকার কি গোপন খবর পেয়ে গিয়েছে? সেই কারণে এই রেড অ্যালার্ট? কারণ ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ যথেষ্ট সক্রিয় হয়েছে দেশের অন্দরে। তার এই প্রশ্নগুলি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।












Discussion about this post