মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের একাধিক মন্ত্রী-এমপি এবং শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলা শুরু হয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। মজার বিষয় হল, ওই ট্রাইবুনাল শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। তখন উদ্দেশ্য ছিল, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। মূলত জামাতের সহযোগী অল বদর, অল সামসের মতো সংগঠনের সদস্য যাদের রাজাকার বলা হয় তাঁদের বিচারের জন্যই এই আদালত গঠন করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন ও নানা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁদের বিচার করে শাস্তি দেওয়া। সেই আদালতেই এখন বিচারের কাঠগড়ায় শেখ হাসিনা, আর যারা তাঁকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তাঁরাই মূলত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। হাসিনার বিরুদ্ধে এবার দায়ের হয়েছে গুম-খুনের মামলা। বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই ধরণের মামলা এই প্রথম। মজার বিষয় হল, তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন আন্দোলনকারী ছাত্ররাই। যেমন, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রমুখ। এমনকি হাসিনাকে ফাঁসাতে ইউনূস সরকার রাজসাক্ষী হিসেবে একই মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশকর্তাকেও সামনে এনেছেন।
কিন্তু এত কিছু করে কি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে পারছেন? উত্তর হল না, পারছেন না। উল্টে হীতে বিপরীত হচ্ছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের একাধিক মন্ত্রী-এমপি এবং শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে, সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাবেক ও কর্মরত মিলিয়ে ২৪ জন সেনাকর্তার নাম। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবার এটা নিয়েই ঢাকা সেনানিবাসে প্রবল ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। হাসিনা-সহ ওই সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অভিযোগের তালিকায় এক নম্বরে আছে গুম খুন। অর্থাৎ অপহরণ করে হত্যা এবং দেহ লোপাট করে দেওয়া। সেনাকর্তাদের অভিযোগ, যে সমস্ত সেনা আধিকারিকের নাম অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে, তাঁদের কিভাবে সিভিল কোর্টে বিচার হয়, তাঁদের সেনা আদালতেও তো বিচার হতে পারে। এই বিষয়টি যদিও সাম্প্রতিক নয়, আগেই এই প্রসঙ্গ উঠেছিল। আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার মাস খানেক আগে একই দিনে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। জানা যাচ্ছে, সেবারও তিনি এই দাবি নিয়েই তাঁদের কাছে দরবার করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেনাপ্রধানের দাবি যে প্রধান উপদেষ্টা মানেননি, সেটা বোঝাই যাচ্ছে।
ঘটনা হল, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ এবার বিদ্রোহী হতে চলেছে বলেই জানা যাচ্ছে। এই অংশের বক্তব্য, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হল সুশৃঙ্খল বাহিনী। তাঁদের যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে আর পাঁচজন সাধারণ অপরাধীর সঙ্গে প্রিজন ভ্যানে করে হাতকড়া পড়িয়ে আদালতে হাজির করানো হয় তাহলে তা ভুল বার্তা যাবে। এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতেও আর বাংলাদেশের সেনাকে ডাকা হবে কিনা সন্দেহ। জানা যাচ্ছে, এই আশঙ্কায় সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ কার্যত অন্তবর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি জেনারেল ওয়াকারও তাঁদের নিশানায়। তাঁদের বক্তব্য, কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, শেথ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বদনাম করার জন্য বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকেই কাঠগড়ায় তুলছেন। এটা তাঁরা কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না। দিন দুই-তিনের মধ্যে যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন সেনা আধিকারিকরা।
অপরদিকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে বাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সেদিকে কড়া নজর রাখছে নয়া দিল্লি। এও জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের নেতৃত্বে একাধিক বৈঠক হয়েছে। যদি বাংলাদেশে কোনও রুপ সামরিক অভ্যুত্থান হয়, তাহলে ভারত কি অবস্থান নেবে বা কি করতে পারে সেটা নিয়েই আলোচনা হয়। কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশে মার্কিন রণতরী আসা নিয়েও আলোচনা হয়েছে নয়া দিল্লির বৈঠকে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।












Discussion about this post