আচমকাই কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। বৃহস্পতিবার রাতে পরপর পড়ল বোমা। জানা যাচ্ছে আফগানিস্তানে এয়ার স্ট্রাইক করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। শুধু কাবুল নয়, পাক-আফগান সীমান্তের একাধিক গ্রামে আছড়ে পড়েছে পাকিস্তানের গোলা-গুলি। আর এটা করা হল এমন একটা সময়, যখন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মন্ত্রী ভারত সফরে এসেছেন। পাকিস্তানের দাবি, তাঁদের দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবানের একাধিক ঘাঁটিতেই হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় পাক-বিরোধী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবানের প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদ এবং তার সহকারী প্রধান কারি সাইফুল্লাহ মেহসুদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। যদিও দিল্লিতে বসে তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দাবি, কাবুলের অদূরে কিছু জোরালো আওয়াজ শোনা গিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি তেমন কিছুই হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, পাক-আফগান সীমান্তে একাধিক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দিল্লিতে বসেই তালিবান মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই হামলার চড়া মূল্য দিতে হবে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানকে নিশানা করে তালিবান মন্ত্রী বলেন, ওদের নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করা উচিত।
উল্লেখ্য, ৬ দিনের ভারত সফরে শুক্রবারই নয়াদিল্লিতে পা রেখেছেন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন। তার পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে লশকর-এ-ত্যায়বা, জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীকে আফগানিস্তান থেকে বের করে দেওয়ার দাবি করেন। তাঁর কথায়, গত চার বছরে তালিবান সরকার তাদের দেশ থেকে সব জঙ্গিগোষ্ঠীকে নির্মূল করেছে। সেই পথ বাকি দেশগুলিকেও অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুত্তাকি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে “আফগান মাটি কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না”। এমনকি তিনি এও বলেন, “আফগানদের সাহসের পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়”। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য বলা হচ্ছে যখন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি চাবাহার বন্দর রুটের মাধ্যমে বাণিজ্যকে সমর্থন করেন। এবং ভারতের সাথে বাণিজ্যের জন্য ভারত-পাকিস্তান আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত খোলার আহ্বান জানান।
কূটনৈতিক মহলের মতে, আফগান মন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক কালে ভারতের হাতে থাকা ইরানের চাবাহার বন্দরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই বন্দর দিয়ে আফগানিস্তানের রাস্তায় বাণিজ্য করছিল ভারতীয় সংস্থাগুলি। তালিবান বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমরাও ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলতে রাজি। তবে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তালিবান সরকারকে ভারত ঘুরপথে স্বীকৃতি দিয়ে একটা মাস্টারস্ট্রোক দিল। কেউ কেউ মনে করছেন, পাকিস্তানকে টাইট দিতে ভারত এবার আফগানিস্তানকেও ব্যবহার করবে। যদিও তালিবান সমর্থিত তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। তাঁরা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় পাক সেনাবাহিনীকে অতিষ্ট করে তুলেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে বালুচ লিবারেশন আর্মি ও মজিদ ব্রিগেড পাক সেনাবাহিনীর নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে। এবার তালিবান সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাঁড়ালো বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। অপরদিকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এও দাবি করছেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে নয়া দিল্লি এবার আফগানিস্তানের মাটিও ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদূরের দ্বিতীয় পর্ব ভারত পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্ত থেকেও পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।












Discussion about this post