বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলতে শোনা যায়, ‘সব মিলিয়ে মোট ১৫জন সেনাহেফাজতে রয়েছে। একজনের কোনও খোঁজ নেই। নিরুদ্দেশ হওয়া সেনাকর্তার নাম মেজর জেনারেল কবির আহমেদ। তাঁর খোঁজে চিরুণি তল্লাশি শুরু হয়েছে। মেজর জেনারেল বলেন, ‘গত ৮ অক্টোবর আমরা খবর পেলাম বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এই বিষয়ে লিখিত কোনও বিবৃতি পায়নি। মেজর জেনারেল কবির আহমেদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাহিনীর তরফ থেকে ডাইরেক্টের জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্ডিলিজ্যান্স (ডিজিএফআই),ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজ্যান্স (এনএসআই), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)কে এক যোগে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিরুদ্দেশ হওয়া মেজর যেন কোনওভাবেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন।’
এই বিবৃতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাহিনীতে এত বড় একটা অঘটন ঘটে গেল অথত সেই বাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল তিনি কিছুই জানে না – এরকম হতে পারে। মেজর জেনারেল কবির আহমেদ আচমকা ভ্যানিশ হয়ে গেলেন সেটা না জানলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার না তিনি নিজে এটাও কেমন ঠেকছে। এর থেকে বড় চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেল। পাক গুপ্তচর সংস্থা দুইজন কর্তা বাংলাদেশ পৌঁছন গত অগাস্টে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-কে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) সাহায্য করা। বাংলাদেশ সেনার কোন কোন কর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায়, সেটা ঠিক চূড়ান্ত করতেই তারা চলতি বছর অগাস্টে ঢাকা পৌঁছন। বাংলাদেশ সেনার জামাত-পন্থী কর্তারা সেনাপ্রধান ওয়াকারকে লাগাতার চাপ দিয়ে এসেছিলেন হাসিনা আমলে যারা গুমখুন, হত্যা, খুন সহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসে ৪৬ জন ব্রিগেডিয়ার রয়েছেন। সূত্রের খবর, একসঙ্গে বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরতদের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি কী করে সামাল দেওয়া যায়, তা রাস্তা খুঁজতেই উত্তরপাড়ায় রয়েছেন ৪৬ ব্রিগেডিয়ার।
এই প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সাম্প্রতিক একটি ঘোষণার উল্লেখ করা যেতে পারে। বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারের প্রায় পরে পরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের অফিসারদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, তা কল্পনা করতেও আমার কষ্ট হয়। আমাদের ব্রাদার অফিসারদের এই অপমানের মুখোমুখি হতে হবে আমরা এটা কীভাবে সহ্য করব ? তাদের দোষ কী? তারা যা করেছে তা তো নির্দেশেই করেছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি আমি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের কাছ থেকে এই অফিসারদের জন্য ইনডেমনিটি দাবি করব। ইনডেমনিটি না পেয়ে যাব না। ’ এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে এই ঘটনায় সেনাপ্রধান ওয়াকার বেশ চাপের মধ্যে রয়েছেন। বাহিনীর একাংশ মনে করছে, যা কিছু হয়েছে, তার জন্য একমাত্র দায়ী সেনাপ্রধান। তিনি চাইলে এই গ্রেফতারি এড়াতে পারতেন। চাইলেই তিনি হাসিনার শাসনাকালেই এদের বিচারের আওতায় আনতে পারতেন। সেনাপ্রধান বেশ ছক কষেই মাঠে নেমেছেন। তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাহিনীর একাংশ চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post