কথা আছে কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়তে নেই। ঢিল ছুঁড়লে পরিণতি কী হতে পারে, সেটা এখন বেশ ভালোরকম টের পাচ্ছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। বলা হচ্ছে, বাহিনীর এতজন কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায়া আনার পিছনে কলকাঠি নেড়েছিলেন সেনাপ্রধান নিজে। আর এখন তাঁকে তার জন্য মাশুল দিতে হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, উত্তরপাড়ায় তিনি নিজেই গৃহবন্দী করে রেখেছেন। ইতিমধ্যে গুম ও মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর যে সব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১৫জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছ সেনাসদর। সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবির মধ্যে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। তাদের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের লগ অঞ্চলে রাখা হয়েছে। রবিবার তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
মেজর জেনারেল বলেন, সব মিলিয়ে মোট ১৫জন সেনাহেফাজতে রয়েছে। একজনের কোনও খোঁজ নেই। নিরুদ্দেশ হওয়া সেনাকর্তার নাম মেজর জেনারেল কবির আহমেদ। তাঁর খোঁজে চিরুণি তল্লাশি শুরু হয়েছে। মেজর জেনারেল বলেন, ‘গত ৮ অক্টোবর আমরা খবর পেলাম বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এই বিষয়ে লিখিত কোনও বিবৃতি পায়নি। মেজর জেনারেল কবির আহমেদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাহিনীর তরফ থেকে ডাইরেক্টের জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্ডিলিজ্যান্স (ডিজিএফআই),ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজ্যান্স (এনএসআই), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)কে এক যোগে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিরুদ্দেশ হওয়া মেজর যেন কোনওভাবেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন। ’
এদিকে, পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ মামুন এই বিচারের আওতা থেকে নিজেকে বাঁচাতে রাজসাক্ষী হয়েছেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশ দানবে পরিণত হয়েছিল। তাই, গণঅভ্যুত্থান জরুরী হয়ে পড়ে। অপর দিকে, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জানিয়েছেন, ২৪-য়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় পুলিশের প্রাক্তন এই আইজি শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় জবানবন্দী দিতে রাজি হননি। তাঁকে প্ররোচিত করা হয়েছে।
কিন্তু যাকে নিয়ে বাংলাদেশে এত বড় ঘটনা বা যে ঘটনার পিছনে তাঁর হাত রয়েছে, সেই সেনাপ্রধানের বিষয়ে এখনও কিছু জানা যাচ্ছে না। তাঁর সম্পর্কে নতুন করে কোনও খবর নেই। কোথায় গেলে সেনাপ্রধান ওয়াকার? সূত্রের খবর তিনি উত্তরপাড়ায় রয়েছে। তবে গৃহবন্দী করে রেখেছেন। প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় যদি পুলিশের প্রাক্তন আইজিকে তোলা যায়, তাহলে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে তোলা যাবে না কেন? আইসিটি সম্প্রতি একটি ধারা সংশোধন করেছে। সেই সংশোধিত ধারার দৌলতে সেনাপ্রধানকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। তবে কি সেনাপ্রধান ওয়াকার গ্রেফতারের আশঙ্কায় রয়েছেন? উত্তরপাড়ায় আবহাওয়া বেশ গুমোট। যে কোনও সময়ে অঘটন ঘটতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post