ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, সেটা এখন কারও অজানা নয়। আবার বাংলাদেশে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই কোনও নির্বাচিত সরকার। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলেই খবর। জানা যাচ্ছে, ১৪ জন কর্মরত বাংলাদেশি সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং তাঁদের হেফাজতে নেওয়া নিয়ে তীব্র অসোন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে সেনাবাহিনীর অন্দরে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় সংকটজনক হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর পরিস্থিতি যে অত্যন্ত জটিল, সেটা বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট। সেটা হল, ওই ১৪ জন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর যে কোনও সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেই আশঙ্কায়, চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর পাঁচ দিনের সৌদি আরব সফর বাতিল করেছেন। ১৪ অক্টোবর তাঁর সৌদি রওনা হওয়ার কথা ছিল। এটা তো গেল বাংলাদেশের খবর। প্রতিবেশী ভারতও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। এমনকি এও জানা যাচ্ছে, ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জরুরি বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনার সঙ্গে। এই বৈঠকের বিষয়ে কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেলেও সরকারিভাবে কিছু বলা হয়নি। অর্থাৎ, বৈঠকটি হয়েছে অতি গোপনে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে যে একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এবং একটা অবাঞ্ছিত গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সে বিষয়ে প্রথম আলোকপাত করেছিলেন প্যারিস-ভিত্তিক ইউটিউবার এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশালী পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনিই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এরপরই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে হইচই পড়ে যায়। প্রসঙ্গত, ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক আদেশের পর, জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের নির্দেশে ১১ অক্টোবর মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার, কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং মেজর পদমর্যাদার ১৪ জন কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অন্যদিকে মেজর জেনারেল কবির আহমেদ নামে এক সেনা আধিকারিক পালিয়ে যান, তাঁকে ধরা যায়নি। জানা যায়, ৯ অক্টোবর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ সেনার ৫৭ জন জেনারেলের এক সমাবেশ থেকে অধিকাংশ অফিসার ক্ষোভ, রাগ এবং হতাশা প্রকাশ করেছিলেন এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা নিয়ে। এও জানা গিয়েছে, ওই সমাবেশে অনেকেই শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দীর্ঘ প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় বলপূর্বক গুম, গোপন আটক এবং নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। কিন্তু দেখা গেল, তাঁদের উপেক্ষা করেই বাংলাদেশ সেনার শীর্ষকর্তারা ১৪ জন কর্মরত সেনা আধিকারিককে কার্যত গ্রেফতার করেছে। এরপরই ক্যান্টনমেন্টগুলিতে একটা প্রবল বিরোধী হাওয়া তৈরি হয় এবং যা বিদ্রোহে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। সেনা হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের যদি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশে একটা তুলকালাম কাণ্ড ঘটতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত যথেষ্টই চিন্তিত।
এই সূত্রেই বাংলাদেশের উৎখাত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি এখন নয়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন তাঁর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন অজিত ডোভাল ও এস জয়শঙ্কর। যদিও এমন কোনও বৈঠকের সত্যতা সরকারপক্ষের কেউ স্বীকার করেনি, তবে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে এই বৈঠক হয়েছে এবং শেখ হাসিনার মতামত চাওয়া হয়েছিল। যদি বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থান জাতীয় কিছু হয়, তাহলে ভারতের কি ভূমিকা থাকবে, ভারত কোনও পদক্ষেপ করবে কিনা সেটা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও এখন দিশেহারা। তিনি একের পর এক বিদেশ সফর বাতিল করছেন। জেনারেল জামান, যিনি এর আগে ১২ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে নয়াদিল্লি সফর বাতিল করেছিলেন, তিনি এবার সৌদি আরবের মতো “গুরুত্বপূর্ণ” সফরেও না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, ১৪ সেনাকর্তা গ্রেফতারির পরের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তিনি অনিশ্চিত এবং অসহায় বোধ করছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post