সেনাবাহীনিতে অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার হওয়ার কথা ঘোষনা হতেই, অনেকেই সেনাঅভ্যুত্থানের কথা বলে দেশ এবং জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চাইছিলেন। কিন্তু সেনার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল যে সেনাবাহিনী দেশের আইন এবং সংবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ ভাবে শ্রাদ্ধাশীল। তাই তারা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে অমান্য করবে না।
গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস-এ’তে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। আওয়ামী লীগ আমলের গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৮ অক্টোবর ২৮ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জন সেনা হেফাজতে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ট্রাইব্যুনালের মামলায় মোট ২৫ সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআর-এ একজন এবং অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ সেনা কর্মকর্তা। তিনি জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নামে এখনো আমরা গ্রেফতারি পরোয়ানা পাইনি। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধান স্বীকৃত বাংলাদেশের সব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পর এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনাসদরে সংযুক্ত করা হয়। তাদের ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনাসদরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি ১৫ জন রেসপন্স করেছেন। তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা ফ্যামিলি থেকে ডিটাচ আছেন।
কবীর আহাম্মদের বিষয়ে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি মিসিং রয়েছেন। তখন তাকেও ইলিগ্যাল অ্যাপসেন্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নিয়মে তাকে ইলিগ্যাল অ্যাপসেন্ট ঘোষণা করেছি। তিনি জানান, এরপর মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিজিএফআই, এনএসআই, বিজিবি-সবাইকে আমরা বলেছি স্থলবন্দর, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর যার যা দায়িত্বে আছে সে দায়িত্ব পালন করতে। যাতে সে দেশের বাইরে যেতে না পারে। আমরা তার গ্রামের বাড়িতে লোক পাঠিয়েছি। আত্মীয়ের বাসায় যেতে পারেন ভেবে সেখানেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এজন্য আমরা হাসপাতালেও খোঁজ নিয়েছি। থানায়ও খোঁজ নিয়েছি। এছাড়া যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, এজন্য আমি নিজে ডিজিএফআই-এর ডিজিকে ফোনে কল করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের গুম সংক্রান্ত একটা জাতীয় কমিশন করা হয়েছে। আমরা কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, আমরা দিয়েছি। বিচার প্রক্রিয়ায় আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। বাংলাদেশ আর্মি জাস্টিসের পক্ষে। ইনসাফ, নো কম্প্রোমাইজ উইথ ইনসাফ।
একটি বিষয় লক্ষ্য করার মত, সেটি হল এত কিছুর মধ্যে সেনাপ্রধানকে কোথাও কোন মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই সন্দেহ করছেন যে তিনি হয়তো নজর বন্দি হয়ে আছেন। অথবা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সেনা ক্যান্টনমেন্টে মধ্যেই।












Discussion about this post