যতুগৃহে আগুন লাগলে সেটা ছড়িয়ে পড়তে খুব দেরি হয় না। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান এখন সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থাকার উদগ্র বাসনা নিয়ে যে ইউনূসকে তিনি ক্ষমতায় বসতে সাহায্য করেছিলেন সেই ইউনূস এবং তার মিত্ররা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন। সেটা টের পেয়েছেন ওয়াকার। তাই, তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী বেঁচে থাকতে বাংলাদেশের উপদেষ্টারা দেশ ছেড়ে কোথাও পালাতে পারবেন না।’ তাঁর এই হুশিয়ারির পিছনে রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার য পলায়তি স জীবতী নীতি। মানে আপনি বাঁচলে বাপের নাম। কিন্তু বাহিনী যে সেটা হতে দেবে না সেনপ্রধান ওয়াকারের বক্তব্যে সেটা হীরের মতো জ্বলজ্বল করছে। সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, যারা রাষ্ট্রদ্রোহ, দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত, তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না। সেনাবাহিনী তো সজাগ আছে। দেশের সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দরে চূড়ান্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় চলছে কড়া নজরদারি।
বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, সেনাপ্রধানের এই হুঁশিয়ার একটি স্পষ্টবার্তা কেউ আইন অমান্য করলে তাঁকে তার জবাবদিহি করতে হবে। তাঁর এই বক্তব্যের প্রভাব পরবর্তীকালে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম এবং জনগণের বিশ্বাসের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সেটা সময় বলবে।
সেনাপ্রধান কেন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সেটা খতিয়ে দেখা যাক। নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেন, উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছেন। এই প্রসঙ্গে নেপালের কথা উল্লেখ করতে হয়। সেখানেও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। একটি তদারকি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছর ৫ মার্চ দেশে নির্বাচন হবে। সেই ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করাই তার একমাত্র লক্ষ্য।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা গেল ঠিক উল্টো চিত্র। সাধারণত এই ধরনের সরকার তিন মাসের জন্য দায়িত্ব নিয়ে আসে। সেখানে মামলা মোকদ্দমা বা সেফ এক্সিট-য়ের মতো বিষয় আসে না। এই সরকার ক্ষমতা রয়েছে এক বছরের বেশি। ধরে নেওয়া যেতে পারে, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারাই ক্ষমতায় থাকবে। এই এক বছরের মধ্যে তদারকি সরকারের অনেকে নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে গিয়েছেন। আর একটি নির্বাচিত সরকারে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার মতো ঘটনার সঙ্গেও অনেকে জড়িত। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরাটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। হাসিনা ফিরলে তাদের অবস্থা যে আরও কঠিন হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই, তারা এমন একটি রাস্তা খুঁজছেন, যে রাস্তা দিয়ে গেলে তাদের কেউ ধরতে পারবে না।
সম্প্রতি নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, তারা কেউ সরকারের উপদেষ্টা পদে যেতে চাননি। তারা জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেটা হলে ছাত্রদের দায়িত্ব নিতে হতো না। রাজনৈতিক শক্তি বা অভ্যুত্থানের শক্তি সরকারে না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকার তিন মাসও টিকত না। প্রথম ছয় মাস সরকারকে উৎখাত করা বা প্রতিবিপ্লব করার নানা ধরনের চেষ্টা চলছিল ছিল। সেই চেষ্টা এখনও বজায় রয়েছে। এই তপ্ত পরিবেশে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post