গুম সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও হাতে পায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে তারা তাদের হেফাজতে নিয়ে বলে জানিয়েছে। ঢাকায় আর্মি অফিসার্স মেসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য পেশ করেন সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মো হাকিমুজ্জামান।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। এই সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও বিচার নিয়ে গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনাও চলছে। আলোচনা, গুঞ্জনের মাঝে বাহিনীর তরফ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, দুটি মামলার ৩০ জন আসামীর মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে নয় জন অবসরপ্রাপ্ত,একজন এলপিআরে গিয়েছেন এবং বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন। মেজর জেনারেল বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। পুলিশের তরফ থেকে তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, “আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেনাকর্মকর্তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ” এক প্রশ্নের উত্তরে মেজর জেনারেল বলেন, সেনাবাহিনী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে ঠিকই।
সংবিধান স্বীকৃত বাংলাদেশের সব আইনের প্রতি সেনাবাহিনী শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে মেজর জেনারেল বলেন, গত ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টিভি স্ক্রল বা গণামাধ্যম থেকে জানান পরে পরে সেদিনই এলপিআরের একজনসহ ১৬ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সেনাকর্তা বলেন, একজন বাদে ১৬ জনের মধ্যে ১৫জনই ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনা সদরে জয়েন করেছেন। শুধুমাত্র মেজর জেনারেল কবির হেফাজতে আসেননি।
এই প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল বলেন, গত ৯ অক্টোবর মেজর জেনারেল কবির আহমেদ আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। সে হিসেবে বলা যায় তিনি ইললিগ্যাল অ্যাবসেন্টে রয়েছেন (অবৈধ অনুপস্থিত)। তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, তার জন্য সব স্থলবন্দর, বিমানবন্দরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। মূল যে বিষয় দেখা দিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে কোন আইনে বিচার হবে তা নিয়ে। মি. হাকিমুজ্জামান বলেন, তারা একইসাথে আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) ও সেনা আইন “মুখোমুখি করতে চান না”। তবে পুলিশ চাইলে তাদের গ্রেফতার করতে পারেন।
ডিজিএফআই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, ডিজিএফআই সেনাবাহিনীর অধীনে নয়। তারা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে। তাই, অভিযুক্তেরা সেনা কর্মকর্তা হলেও সেখানে সেনাবাহিনীর কথা বলার কোনও এক্তিয়ার নেই।
তবে একাংশ সেনাকর্তার সঙ্গে এই ধরনের ঘটনায় বাহিনীর ওপর প্রভাব পড়বে বলে সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন একজন প্রাক্তন সেনাকর্তা। তিনি বলেন, একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলছেন, এ ঘটনাটি যেভাবে জনসম্মুখে প্রচার করা হয়েছে, তাতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।












Discussion about this post