ভারতের আশ্রিতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা যাবেন পাঁচ দেশে। দেশগুলি হল সুইৎজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং তুরস্ক। সফর শুরু হবে ২৪ অক্টোবর। ৩০ অক্টোবর তাঁর ভারতে ফেরার কথা। কোনও কোনও গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, হাসিনার পরবর্তী গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কোনও একটি দেশ হতে পারে। কোনও কোনও গণমাধ্যম দাবি করছে হাসিনার পরবর্তী সফর রাশিয়া হতে পারে। যেতে পারেন চিন। তবে ভারত ছেড়ে কোথায় যাবেন, সেটা এখনও নিশ্চিত করে কারও পক্ষে বলা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, তাঁর লাল পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাই, কতদিন তিনি ভারতে থাকতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রে পাওযা খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন দিল্লির কাছে জানতে চেয়েছে, শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে রয়েছেন ? দিল্লিতে তাঁর অবস্থান কেমন? সাউথব্লকের তরফে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা মধ্যপ্রাচ্যের কোনও একটি দেশে চলে যাবেন। এমন খবর ঢাকার সরকারি মহলকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হল, কেন হাসিনা বিদেশ সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এর মূল কারণ হাসিনা চাইছেন জনসমর্থন আদায় করতে। বিদেশ সফরের বিষয়টিও বেশ নজর কাড়ার মত। তদারকি সরকার জানিয়ে দিয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। যদিও দিন তারিখ এখনও ঘোষণা করেননি। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীতে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এক ধাক্কা এক ডজনের বেশি প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাসদস্যদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে, দেশে চূড়ান্ত নৈরাজ্য। কেন বাহিনীর সদস্যদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, তা নিয়ে সে দেশে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সেনাপ্রধান ওয়াকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমন একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে বাহিনীতে যে কোনও সময় বিদ্রোহ দেখা দেবে।
অপর দিকে, যে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে মহম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল যে ডিপ স্টেট, তারা বুঝে গিয়েছে ইউনূস একেবারে অপদার্থ। না লাগে হোমে, না যজ্ঞে। এমন একজনকে ক্ষমতায় বসিয়ে রাখা আর না রাখা সমান। উপদেষ্টাদের অনেকে এখন আবার সেফ এক্সিটের চিন্তাভাবনা করছেন। তারা তলে তলে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে।
আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে আর যে কটি রাজনৈতিক দল আছে, তারা নিজেরা ঝগড়া করতে এত ব্যস্ত যে তাদের নিয়ে বাংলাদেশে একটি মিলিজুলি সরকার তৈরি হলেও সেটা বেশিদিন টিকবে না। তার থেকে হাসিনাই ভালো। কারণ, আওয়ামী লীগের যে সমর্থন বাংলাদেশে আছে সেটা অন্য কোনও দলের নেই। আর হাসিনার দেশ ছাড়ার পর সেই সমর্থন কয়েক গুন বেড়ে গিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশবাসী বুঝে গিয়েছে, হাসিনা আমলে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা কোনওভাবেই সমর্থন করা সম্ভব নয়। জনমানসে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবুও হাসিনা এবং তাঁর দল বাকি রাজনৈতিক দলের থেকে অনেক অনেক ভালো। সুতরাং, হাসিনাতে তাঁদের আস্থা।
সম্প্রতি একটি জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করে বিবিসি। সেই জনমত সমীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে আওয়ামী লীগ আরও বেশি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। বাংলাদেশের আগামী দিনে অভিমুখ কী হবে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post