বাংলাদেশে ঘটনার ঘনঘটা।
সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের। তিনি সফর বাতিল করেছেন। আসার কথা ছিল দিল্লি। সেটাও বাতিল করেছেন। বলা ভালা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিত তাকে সফর বাতিল করতে বাধ্য করেছে। বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার চার উচ্চপদস্থকর্তা বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। মঙ্গলবার তারা ঢাকা পৌঁছেছেন বলে খবর। সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে তাঁদের দেখা করার কথা। তবে উত্তরপাড়া জানিয়ে দিয়েছে, সেনাপ্রধান দেখা করতে পারছেন না বিশেষ কারণে। কী সেই বিশেষ কারণ, সেটা কিন্তু বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। এটা অনুমান করা কঠিন হবে না বা এই অনুমান অযৌক্তিক হবে না যে ভারতীয় সেনাপ্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করা মানে তিনি আরও চাপের মধ্যে পড়ে যাবেন। এমনিতে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সময় একেবারে ভালো যাচ্ছে না।
সৌদি আরব এবং দিল্লি সফর বাতিল করার আসল কারণ কিন্তু বাহিনীর মধ্যে একটা গুমোট আবহাওয়া তৈরি হওয়া। যেদিন বাহিনীর তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত মিলিয়ে ২৫ জন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা হয়েছে। চাপের মুখে শনিবার ক্যান্টনমেন্টে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বাহিনীর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া অফিসারদের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই তপ্ত আবহে বাংলাদেশ সফর করছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন জেনারেল কুন্দন কুমার সিং। ঢাকার বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের এই সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ উত্তাল গত ১৫ মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় সেনার কোনও প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেনি। এই সফকে নিছক রুটিন সফর বলা যায় না। তার একটাই কারণ। উত্তরপাড়ার অতিথি ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের তদারকি সরকারের কাছে এই সফর রীতিমতো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে সাউথব্লকের হস্তক্ষেপের একাধিক সুযোগ ছিল। সাউথব্লক কিন্তু একটি সুযোগেরও সদ্ব্যবহার করেনি। উলটে জানিয়ে দিয়েছে, দিল্লি স্বাধীন কোনও দেশের ঘরোয়া বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা পছন্দ করে না। একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে দিল্লি চাইছে সে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হোক। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হোক। সাউথব্লক থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সব রকম প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ঢাকায় রয়েছেন। সফরে এমন কিছু কর্মসূচি রয়েছ, যা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর চোখ চড়কগাছে তোলার পক্ষে যথেষ্ট।
যে কর্মসূচি নিয়ে তাদের এই সফর, সেই কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে ঢাকায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিমান বাহিনী বিভাগ, ডিরেক্টরেটর জেনারেল অব ফোর্সেজ ইন্টেলিজ্যান্স, আর্মি অ্যাভিয়েশন গ্রুপ এবং পদাতিক ডিভিশনের সঙ্গে তারা বৈঠক করবে। বৈঠকে তারা কী নিয়ে আলোচনা করতে পারেন তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজারেও যাবে বলে সূত্রের খবর। এই সফরও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেনাগোয়েন্দা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেয়েছে, এই অঞ্চলে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের তৎপরতা সম্প্রতি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছেন। সেটা বৃদ্ধি সরেজমিনে দেখতে চাইছে সেনা গোয়েন্দা শাখা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post