বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সেনাছাউনি যা ক্যান্টনমেন্ট নামে পরিচিত তা এখন উত্তপ্ত। বিশ্বাসহীনতা আর অনুগত্যের অভাব এখন ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে। ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইবুনাল পনেরো সেনা কর্তা কে মানবতা লঙ্ঘন করার দায়ে অপরাধী ঘোষিত করার পরই ক্যান্টনমেন্ট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই চোদ্দজনকে ক্যান্টনমেন্ট এর ৫৪ নম্বর বাড়িতে আন্তরিন করা হয়েছে। সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে এই বাড়িটি রাতারাতি কারাগারে পরিণত করেছেন। সেই রাতেই সেনাদের মধ্যে তিনটি ভাগ্ হয়ে গেছে। আওয়ামী লিগ পন্থীরা একদিকে, অন্যদিকে বিএনপি ও জামাত। একটি তৃতীয় পক্ষও আছে। যারা না বিএনপি অথবা জামাত কিংবা না আওয়ামী লিগ। এই তিন পক্ষের ঠোকাঠুকিতে এখন বিদ্রোহ ক্যান্টনমেন্ট এ। ওয়াকার উজ জামান তাঁর যে নীতি তার দ্বারা সবপক্ষ কে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি না এরশাদ, না জিয়াউর রহমান তাই এখনো ২০০৯ কিংবা ২০১১ র মতো অবস্থা হয়নি বাংলাদেশে। তিনি যে কায়দায় মুহাম্মদ ইউনূস এবং শেখ হাহিনাকে একসঙ্গে তুষ্ট করেছেন সেই একই কায়দায় ক্যান্টনমেন্টে আগুনে ছাই চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একটা শ্রেণীর অভিযোগ তিনি নাকি অন্য নামে আওয়ামী লিগ কে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এই লবি থেকে প্রতিদিন গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে সেনাপ্রধানকে গ্রেপ্তার করা হবে। রাজনৈতিক দল গুলি এই বিষয়ে সরব হচ্ছে। এই অবস্থায় সেনাপ্রধান কি দেশে মার্শাল জারি করতে পারেন না? সেই ঝুঁকি কতটা নেবেন ওয়াকার উজ জামান সেই ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ যাচ্ছে। এই ঝুঁকি যদি তিনি ২০২৪ এর ৫ অগাস্ট নিতেন তাহলে আজ তিনি হতেন দেশের একছত্র শাসক। কিন্তু সেদিন তিনি হাদিনাকে পদত্যাগের কথা বলার সাহস সঞ্চয় করলেও ঝুঁকি নিতে পারেননি। ওয়েকার উজ জামানের শরীরে মেদের অধিক্য আছে। তিনি বই পড়তে, ছুটির দিনে দিবানিদ্রা দিতে, ভালো খাবার খেতে পছন্দ করেন। জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের মধ্যে যে সেনা সুলভ কাঠিন্য ছিল শরীরে, তা ওয়াকার উজ জামান এর শরীরে অনুপস্থিত। তাই তিনি সবাইকে তুষ্ট করার চেষ্টা করচ্ছেন। যদিও শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা সর্বজন বিদিত। তিনি শেখ হাসিনার নিকট আত্মীয়। হাসিনাই তাঁকে সেনাপ্রধানের পদে বসিয়েছেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর কার্যক্রমের মেয়াদ। তিনি কি অন্য সেনা অধিকারিকদের মতো নিরামিষ অবসর জীবন পালন করবেন নাকি নির্বাচন আরো এগিয়ে আনার জন্যে দেশে সামরিক শাসন জারি করবেন – কয়েক বিলিয়ন ডলার এর প্রশ্ন এটি।সেনাবাহিনী যখন নিজেদের কর্মীদের হেফাজতে নিচ্ছে, তখনই দেশজুড়ে এক বিশেষ বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অনেকের দাবি, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সামরিক আদালত রয়েছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ বা অসামরিক আদালতে এই প্রক্রিয়া কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে।উল্লেখ্য, জুলাই ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা শুরু হয়। ওই মামলাতেই সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার অভিযোগে একাধিক সেনাকর্তা অভিযুক্ত হন।
এদিকে, এই সামরিক কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের ফলে বাংলাদেশে নতুন করে অশান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই কর্মরত অফিসার। তাদের বিরুদ্ধে এতদিন পর পদক্ষেপ কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।কিন্তু এঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আমলে ‘গুম করে নির্যাতন’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এ জড়িত থাকার অভিযোগেই এঁদের হেফাজতে নিয়েছে সেনা। অবশ্য, কেন গ্রেফতার করা হয়নি, তাঁদের সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাংশ। হাসিনার আমলে তাঁদের ‘দৌরাত্ম্য’ নিয়ে অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের সেনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকেই। যা ঘিরে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের উপর।
এখন দেখার বিষয় ক্যান্টনমেন্টের এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধান কি সামরিক আইন প্রণয়নের বিরাট ঝুঁকি নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।












Discussion about this post