বাংলাদেশে পরতে পরতে রহস্য। রহস্যগুলি এতটাই জটিল যে ফেলু মিত্তিরের পক্ষে এই সব সমস্যার সমাধান প্রায় অসম্ভব। শার্লক হোমস পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সরকারের মেজকর্তা যা বলছেন, সেজ কর্তা ঠিক তার উল্টোটা বলছেন। সেনাবাহিনীর এক কর্তাই কথা ধরা যাক। তিনি অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। বলেন, বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর তিনি সমাজমাধ্যম এবং টিভির স্ক্রল দেখে জানতে পেরেছেন। এতো সেই সুকুমার রায়ের কবিতার কথা মনে করায় – আজগুবি চাল বেঠিক বেতাল, মাতবি মাতাল রঙ্গেতে। আয়রে তবে ভুলের ভবে অসম্ভবের ছন্দেতে।
সাদা চোখে দেখলে মনে হবে সব ধোঁয়া ধোঁয়া। ব্যাপারটা আদৌ ধোঁয়া নয়। কথাগুলি বলা হচ্ছে এমনভাবে যাতে সকলের কাছে ধোঁয়া ধোঁয়া মনে হয়। প্রথমে আসা যাক হাকিমুজ্জামানের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, ১৫ জন কর্মকর্তাকে তাঁরা হেফাজতে নিয়েছেন। এই হেফাজত মানে কি গ্রেফতার? বাহিনী তো তাদের গ্রেফতার করতে পারে না। তাদের সেই ক্ষমতা নেই। গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ। ব্যাপারটা তাহলে দাঁড়াল অশরীরি আত্মার লিরিক কম্পন-য়ের মতো।
গত রবিবার ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি বিজ্ঞাপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে সই রয়েছে একজন ডেপুটি সেক্রেটারির। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের উত্তরাংশে মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস –য়ের ৫৪ নম্বর বাড়িটিকে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই কারা থাকবেন। ভূতেদের থাকার জন্য যে ওই বাড়িটিকে সাব জেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, সে ব্যাপারে সকলেই নিশ্চিত। হাসিনার মন্ত্রী সান্ত্রি, সেপাই, বরকন্দাজ, কিংবা তদারকি সরকারের প্রধান বা তাঁর উপদেষ্টাদের পিসি-মাসি, মামা-কাকাদের রাখার জন্য যে ওই বাড়ি নয়, সেটাও সকলে বুঝতে পারছে। এটা বোঝা যাচ্ছে না যে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতিতে তার কোনও উল্লেখ নেই। এর মধ্যে আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার তাজমুল ইসলামের বক্তব্য বেশ ধোঁয়া ধোঁয়া। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের থেকেই তিনি জেনেছেন কোন বা়ড়িটিকে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জনপ্রিয় এই হিন্দি গানটি মনে পড়ে – ‘গোলামাল হ্যায় ভাই সব গোল মাল হ্যায়’। সব গোলমাল।
ভূমিকাতেই কেন হোমরা চোমরা গোমরা কর্তাদের কথা বলা হয়েছে। একজন বলছে এখন দিন। দ্বিতীয় জন বলছে উঁহু এখন রাত। আকাশে তারা দেখা যাচ্ছে। তাজমুল আবার এটাও বলেছেন কোনটিকে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেটি তাঁর বা তাদের জানার বিষয় নয়। কোনটা জানার বিষয় আর কোনটা নয়, তারা কি নিজেরা জানেন। চিফ প্রসিকিউটার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলোচিত গুমের কয়েকটি মামলার তদন্ত রিপোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করা হবে। খুব তাড়াতাড়ি গুমের মামলার বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা বলেছি। আরও অনেকে ঘটনা ঘটবে। তবে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইছি না।’
বোঝো কাণ্ড। কী ঘটবে, সেটা তিনি আগাম জেনে গেলেন। আর কী ঘটেছে সেটা তিনি জানেন না। কিন্তু কথার মধ্যেই কথা লুকিয়ে থাকে। যে বাড়িটিকে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা আসলে সরকারের তরফে আগাম প্রস্তুতি। সেটা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করতে চাইছে না। পাছে অন্য কোনও কর্তা যদি কিছু বলেন।
আর কইয়ের না কত্তা ঘুড়ায় হাসব।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post