এতদিন মনে হত ক্ষমতা কে ভোগ করবে তাই নিয়ে ইউনূস আর ওয়াকারের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে।প্রথমদিকে অনেকেই মনে করতেন বকলমে ওয়াকার দেশ চালাচ্ছেন, ইউনূস কখনও কখনও রাশ হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন মাত্র। কিন্তু সেনাপ্রধান আর খলিলুর রহমানের দ্বন্দটিই আসল দ্বন্দ। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সেনাবাহীনির মাথার উপর এমন একজনকে বসানো হয়েছে, যার নাম ধামের ঠিক নেই, খলিলুর রহমান নাকি রজার রহমান, কোনটি তার আসল পরিচয় সেটিও কেউ জানেনা। তার বিরুদ্ধে নাকি খুনেরও অভিযোগ রয়েছে। আর ওয়াকার তো নামেই সেনাপ্রধান, তার হাতে কতটা ক্ষমতা আছে সেটা সে নিজেও জানে না।যেমন সে জানেনা সে বন্দি না মুক্ত। কারণ তার সিদ্ধান্ত আটকে যায় সিভিল উপদেষ্টা কাউন্সিলে।যেখানে পাকিস্তান থেকে আসা কর্তারা খুবই প্রভাবশালী।সামরিক কাঠামোতে এখন শুধু আতঙ্ক, সন্দেহ আর বিভাজন।আইসিটি থেকে জেনারেলদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরয়ানা জারি, সামরিক কাঠামোর উপর এক চুড়ান্ত আঘাত, তাই ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে যে চুড়ান্ত ক্ষোভ তা আর ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, তা হল প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষোভ। একদিকে ইউনিফর্ম পরা সেনাকর্তাদের হাতকড়া পরানো হচ্ছে,অন্যদিকে সরকার বলছে আইনের শাসন।কিন্তু সেনারা এটিকে কিভাবে দেখবে,তারাতো দেখছে রাষ্ট্র তাদের সম্মান হানি করতে চাইছে। সেনাপ্রধান ভালো করেই জানেন সেনাদের মনোবল একবার ভেঙে গেলে দেশ আর টিকবে না। তাই তিনি নিরপেক্ষতার কথা বলছেন, আসলে এই নিরপেক্ষতার কথা বলা ছাড়া সেনাপ্রধানের আর কিছু বলারও নেই আর বাঁচার রাস্তাও নেই। সেনাপ্রধানকে বলা হয়েছে দেশের বাইরে না যেতে এবং কোন বক্তিতা বা আলোচনায় অংশ না নিতে। তিনি বন্দি নন এটা যেমন ঠিক, আবার সেনাপ্রধানের মত স্বাধীনও নন।ফলে বর্তমান ঘটনাগুলিকে দেখলে বা পর্যবেক্ষন করলে বোঝা যায়। দু-জনেই ক্ষমতাহীন ব্যক্তি। আর দেশকে যে কোন তৃতীয় ব্যক্তি চালাচ্ছে তাও নয়। আসলে সাধারণ মানুষ ভালো করেই বুঝতে পারছেন খুন ধর্ষন লুঠ পাঠকে সঙ্গে নিয়ে দেশ কোন রকমে চলে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি টালমাটাল, ব্যঙ্কিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষ পাঁচ হাজার টাকাও তুলতে পারছে না। বেকারত্ব বেড়েছে সীমাহীন। প্রশাসনের ভিতরে অবিশ্বাস আর ভয়। কারণ ইউনূসের চারপাশে যারা আছেন তারা সবাই এনজিও করা ব্যক্তি, রাষ্ট্রপরিচালনার কোন অভিজ্ঞতাই নেই তাদের। ইউনূস বিদেশে গিয়ে দু-চারজনকে জুটিয়ে সভা সমিতি করেন, কে মেয়র আর কে রাষ্ট্রপতি সেটি যেমন বোঝেন না, তেমন বোঝেন না কার কি ক্ষমতা।আমেরিকা যে ইউনূসকে কি চোখে দেখে, তার প্রমান হয়েছে ইজরায়েল গাজার শান্তি চুক্তিতে, যে অনুষ্ঠানে শান্তিতে নোবেল পাওয়া ইউনূসেরই কোন আমন্ত্রন নেই ।ফলে বাংলাদেশে এখন একটি ডিপস্ট্রেট নেই। একদিকে পাকিস্তানি ইনটারেস্ট, যারা চায় ধর্মের ভিত্তিতে দেশটিকে ক্ষেয়ে ফেলতে। অন্যদিকে আমেরিকা তাদের উপনিবেশ গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর যে সমস্ত ছাত্ররা সাধারণ ছাত্রদের মৃত্যুর জন্য সামনে এগিয়ে দিয়ে,নিজেরা পিছনে থেকে আন্দোলোনকে নেতৃত্ব দিয়েছিল তারাও চাইছে তাদের ভাগ বাটোয়ারা বুঝে নিতে। আসলে দেশ পরিচালনা করতে গেলে যে ধরণের অভিজ্ঞতা লাগে তার বিন্দু মাত্র নেই ইউনূস এবং ওয়াকারের। বাংলাদেশে অনেক নেতা আছেন যারা ঘোর হাসিনা বিরোধী।কিন্তু তারা হাসিনার ক্ষমতাকে আজও সম্মান করেন। তারা মনে করেন হাসিনা যদি অন্যায় করতে পারেন, তবে তিনি অন্যায় কে দমনও করতে পারেন। তার হকুমেই সব হয়। আসলে বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যতক্ষন ক্ষমতায় থাকেন ততক্ষন তারা সর্বশক্তিমান হয়েই বিরাজ করেন। তার কুফল কিছু থাকলেও দেশ শাসন করতে গেলে এই ধরনের গুনই থাকা জরুরি। পৃথিবীতে এমন কোন ক্ষমতাধর নেতা আছেন? যিনি ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচারের মত ব্যবহার করেন নি? দেশ শাসন করতে গেলে, দেশকে হাতের মুঠোয় রাখতে গেলে যে গুনটির বেশী প্রয়োজন সেটি হল, কারো মতে স্বৈরাচার আবার কারও মতে ফ্যাসিবাদ। কিন্তু হাসিনা দেশ বিরোধী হলে তো ভয়ঙ্কর হত্যা যজ্ঞ চালিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। আর যে সমস্ত মৃত্যু জুলায়ে হয়েছে তার বেশীর ভাগই পুলিশ আবার অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুকেও জুলাই যোদ্ধার মৃত্যু বলে দেখানো হয়েছে। তাই দূর্বল ইউনূস এটা প্রমান করেছেন যে তিনি দেশ ব্যর্থ হলেও একজন ভালো চক্রান্তকারী।












Discussion about this post