ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১৪ জন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে কি গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করানো হবে? তাঁদের ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে সেনাবাহিনী, রেখেছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর এক অফিসার্স মেসে। গোটা ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি তাঁদের গ্রেফতারই করা হয়, তাহলে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন আদালতে হাজির করানো হল না? এর পরই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর সৌদি আরব সফর বাতিল করেছেন। এই মুহূর্তে তাঁর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ এবং জল্পনা বাড়ছে। জেনারেল ওয়াকার এখন কোথায়, তিনি কি আত্মগোপন করেছেন? এই প্রশ্নগুলিই এখন বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনকালে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি। যাদের মধ্যে ২৫ জনই বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এই ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জনই বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তাঁদের মধ্যে একজন পলাতক এবং বাকিরা সেনা হেফাজতে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান গত শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাঁদের হাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা এসে পৌঁছায়নি, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযুক্ত সেনা আধিকারিকদের সেনাসদরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছিল। তাঁরা রিপোর্ট করেছেন এবং তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং সেনাবাহিনী ন্যায়বিচারের পক্ষে।
এরপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটি দিন। এখনও ওই সেনাকর্তাদের আদালতে হাজির করানো হয়নি। বোঝাই যাচ্ছে তাঁদের গ্রেফতার নয়, বরং নিরাপদ হেফাজতে রেখেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু এত কিছুর মধ্যে একটাই জল্পনা চলছে, সেটা হল বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কোথায়? তিনি এখনও পর্যন্ত সামনে আসেননি এমনকি তাঁর তরফে কোনও বিবৃতিও সামনে আসেনি। কেউ কেউ দাবি করছেন, জেনারেল ওয়াকার গা ঢাকা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব অনুসারে, জেনারেল ওয়াকার সম্ভবত কুমিল্লা সেনানিবাসে নিরাপদ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে পাহাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশের প্যারা কমান্ডোরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরণের জল্পনা সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মেজর জেনারেল কবির আহমেদের অন্তর্ধান এই ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি গ্রেফতারি এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম দাবি করছেন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন।
কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সবচেয়ে উদ্বেগজনক গুজব হল, জেনারেল ওয়াকার কুমিল্লা সেনানিবাসে নিরাপদ হেফাজতে লুকিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি সূত্র দাবি করছেন এটি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ডে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের অভাব এবং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। জানা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কিছু অফিসারের মধ্যে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে অসন্তোষ করেছিলেন। কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন, জেনারেল ওয়াকার একটা সম্ভাব্য বিদ্রোহের ভয়েই আত্মগোপন করেছেন। সেনাপ্রধানের অবস্থান নিয়ে সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এখন আরও একটি গুজব রটছে। সেটা হল বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের স্ত্রী বেগম সারাহনাজ কমলিকা, যিনি শেখ হাসিনার সম্পর্কিত বোন তিনিও নাকি মুখ খুলেছেন। দাবি করা হচ্ছে, বেগম সারাহনাজ কমলিকা নাকি দাবি করেছেন জেনারেল ওয়াকার নাকি শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছেন। তিনি চারটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যদিও এ ব্যাপারে কোনও নির্ভরযোগ্যো প্রমান নেই। তবে জেনারেল ওয়াকারের অন্তর্ধান ও তাঁর নিরবতা অনেক কিছুই বলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কিছুই ভালো হচ্ছে না।












Discussion about this post