রোম থেকে দেশে ফিরে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস একটি সর্বদল বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে অংশ নিয়েছিল এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামী। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে এনসিপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ উপদেষ্টাকে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আপনার যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা কোনওভাবেই কাম্য নয়। বরং আগামীতে দেশে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দেশের জন্য তা হুমকি স্বরূপ। তাই আমি আশা করছি প্রতিরক্ষাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করে ফেলবেন।’ দল এও বলেছে, শাপলা প্রতীক তাদের না দেওয়া হলে তারা গণভোটে অংশ নেবে না। বৈঠক জামায়াতে ইসলামীও তাদের অবস্থান তদারকি সরকারের কাছে স্পষ্ট করে দেয়। তারা বলে, নভেম্বরে গণভোট তারপর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন।
এবার দুই দলের বক্তব্যের পিছনে কী অভিসন্ধি আছে, সেটা একবার তলিয়ে দেখা যাক। এদের সবার উদ্দেশ্য যে কোনও উপায়ে ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে একটা মৌলবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় আসীন করা। সেটা ইউনূস বেশ বুঝে গিয়েছেন। শত হলে ব্যাংকে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন ধরনের লোকের সঙ্গে তারা পরিচয় হয়েছে। তার মধ্যে সাধারণ নাগরিক যেমন আছেন, আছেন প্রভাবশালীরা। ফলে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি তাদের দাবির মধ্যে দিয়ে কী বার্তা দিতে চাইছেন, সেটা টের পেয়ে গিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান। তাই, যমুনায় তিনি ঘন ঘন বৈঠক করেছে।
প্রথমে আসা যাক গণভোট প্রসঙ্গে। জুলাই সনদে স্পষ্ট করা হয়েছে যে নভেম্বরে গণভোট হবে। তারপর ফেব্রুয়ারিতে হবে নির্বাচন। আর এই নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, সেটা অনুমান করাটা খুব ভুল হবে না। জুলাই সনদে তারা কিন্তু সই করেছে। তাহলে নতুন করে আবার জুলাই সনদ নিয়ে তারা সুর চডাচ্ছে কেন। এবার আসা যাক এনসিপির দাবি নিয়ে।
দলের দাবি ছিল কেটলির পরিবর্তে তাদের শাপলা প্রতীক দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে। কমিশন বলেছে, তাদের তালিকায় শাপলা প্রতীক না থাকায় তারা এনসিপি ওই প্রতীক দিতে পারছে না। গত ১২ অক্টোবর কমিশন সাংবাদিক সম্মেলন করে। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই প্রতীক নিয়ে এনসিপির এক উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিইসি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে শাপলা প্রতীক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (চিফ ইলেকশন কমিশনার বা সিইসি) বলেন, ‘নিয়ম হল তালিকাভুক্ত যে সব প্রতীক আছে, সেখান থেকে নিতে হবে। এখনও পর্যন্ত কমিশন কোনও রাজনৈতিক দল এমন কোনও প্রতীক দেয়নি যেটা তালিকায় নেই।’ প্রধান নির্বাচন কমিশনের যে বক্তব্যটি উল্লেখযোগ্য, সেটি হল, নাসির উদ্দিন জানিয়ে দিয়েছে প্রতীকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা বা হ্রাস করার এক্তিয়ার তাদের রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি একটি পরিসংখ্যান পেশ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,‘আগে ১১৫টি প্রতীক ছিল না। এখন আছে।’
তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে এই দুই দলের উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য একটা ঘোঁট পাকিয়ে নতুন করে একটা অচলাবস্থা তৈরি করা যাতে বাংলাদেশে কোনওভাবেই নির্বাচন হতে না পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post