সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পুলিশ এক আওয়ামী লীগের নেতার খোঁজে বাড়িতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের চূড়ান্ত হেনস্থা করেছে। তারা জোর করে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। বাড়ির মহিলা সদস্য বাধা দিলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের এক মহিলা ওই পুলিশকর্মীদের কাছে ওয়ারেন্ট দেখানোর দাবি করেন। জবাব আসে ওয়ারেন্ট ছাড়াও পুলিশ তল্লাশি করার ক্ষমতা রাখে। ফোনে ওই দুই পুলিশ কর্মী তাদের দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মহিলা পুলিশকর্মী পাঠানোর অনুরোধ জানান। এমনকী তাঁরা নিজেদের মধ্যে বলা বলি করেন ‘মহিলাকে মারতে মারতে থানায় নিয়ে যাব। ’ মহিলাকে তারা বেয়াদপ মহিলা বলেও মন্তব্য করেন।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে গুঞ্জন শোনা যায়, ইউনূসের পুলিশ ও সেনা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিশানা করেছে। তাদের পরিবারের ওপর শুরু করেছে নানা ধরনের নির্যাতন। এই ভিডিও সেই অভিযোগে সিলমোহর দিল। আর আওয়ামী লীগ আমলে যে সব স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা ছিল, যে সব মানবাধিকার সংগঠন ছিল তারা কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। তারা আবার মুখ খুলবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এলে। যেমন দেখা গিয়েছিল হাসিনা যখন সরকারে ছিলেন। এই সব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, মানবাধিকার সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এদের ঠিক কী অপরাধ ? এদের একটাই অপরাধ এরা আওয়ামী লীগের সমর্থক বা কর্মী বা নেতা। শুধু কি পুলিশ একাই অত্যাচার করছে? সন্ত্রাসে অভিযুক্ত জামায়াত ইসলামী, এনসিপি, বিএনপি তারাও সামিল। আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কেই কিছু বললেই তাঁকে দেগে দেওয়া হবে আওয়ামী লীগের সমর্থক বা কর্মী। সে আওয়ামী লীগ না করলেও। আসলে পুলিশ ও প্রশাসন এখন প্রতিশোধস্পৃহায় মেতে উঠেছে। আর এর পিছনে সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে। এটা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাবে না, যে ইউনূস সরকার চাইলে এই সব নৈরাজ্যে লাগাম পরাতে পারতেন। চাইলে পুলিশের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি মুখ বুজে রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে অন্যজায়গায়? এই সব করে তারা আওয়ামী লীগের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করে দিচ্চেন না তো।
প্রথম রাস্তা হল আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থন আরও বাড়িয়ে দেওয়া। প্রশাসনের তরফ এই যে অত্যাচার বা নিপীড়ন চলছে তাতে হাসিনার প্রতি মানুষের সমর্থন আরও বাড়বে। এটা এখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে যে ক্ষমতায় হাসিনাই ফিরবেন। সুতরাং, এটা ধরে নেওয়া খুব অমলুক হবে না যে হাসিনার দল ক্ষমতায় ফিরলে তারাও এই সব পুলিশকর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে যাবেন। আর এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইসলামী মৌলবাদী শক্তি। হাসিনা আমলে যাদের গলা শোনা যেত না এখন তারা গলা আর বুক ফুলিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ক্ষেত্রেও ইউনূস এবং তাঁর প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ মনে করছে, তদারকি সরকার চাইছে দেশটা রসাতলে যাক। তার কিছু নিদর্শন আগেও দেখা গিয়েছে। তবে সংখ্যা খুব কম ছিল। কাল যত এগিয়ে আসছে, সেই সব অরাজকতার বহর আরও বেড়েছে। ইউনূস একটি বিষয় ভুলে যাচ্ছে, শেষের সেদিন বড় ভয়ঙ্কর।












Discussion about this post