মূল খবরে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি শততম ‘মন কি বাত-য়ের’ উল্লেখ করতেই হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি নাম করেন লক্ষ্মণ রাও জি ইনামদারের। নমো তাঁকে উকিল সাহেব বলে ডাকতেন। ভদ্রলোক রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সদস্য ছিলেন। আর মোদির মেন্টর। ওই রেডিও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘে যোগ করান ইনামদার। কতটা ক্ষুরধার বুদ্ধি রাখতেন এই ভদ্রলোক, সেটা অনেকেরই জানা।
প্রসঙ্গ উল্লেখ করার কারণ, ভারত এখন আমেরিকা, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান – এই তিন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে খেলতে শুরু করেছেন। সেটা কীরকম, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন। সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তিনি এসেছিলেন ভারতের সমর্থন আদায় করতে। সাউথব্লক থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। আর বিদেশমন্ত্রী কাবুল ফিরে যাওয়ার পরে আফগানিস্তান পাকিস্তানের ওপর আঘাত হানে। কৌশলগতভাবেই পাকিস্তানকে ব্যস্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সাউথব্লক।
অপর দিকে, হাসিনা-উত্তর পরিস্থিতির দিকে সাউথব্লক কড়া নজর রেখেছে। ঢাকা এবং উত্তরপাড়াকে চাপে রাখতে একের পর এক কূটনৈতিকভাবে অদৃশ্য খেলা শুরু করেছে। বাংলাদেশ নানা দিক থেকে অস্থির। সেনায় চূড়ান্ত অশান্তি। বাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান নিজেই চাপে রয়েছেন। পাকিস্তান যাতে বাংলাদেশের ব্যাপারে মাথা ঘামাতে না পারে, তার জন্য এক মোক্ষম চাল চেলে রেখেছে।
এদিকে, বাংলাদেশে সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এসেছিল। তা নিয়ে কম গুঞ্জন তৈরি হয়নি। ঢাকা এবং উত্তরপাড়া জানিয়ে দেয় যৌথ মহড়ার জন্য ওই মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ তাদের দেশে এসেছে। যদিও এই বিবৃতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ঢাকার জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যৌথ মহড়ার সিদ্ধান্ত ! বোঝাই যাচ্ছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।
আসলে আমেরিকা এসেছিল পদ্মার জল মাপতে। যদিও ওয়াশিংটন পরে উপলব্ধি করে ঢাকার সঙ্গে বেশি মাখামাখি করলে সাউথব্লকের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে যাবে। কড়া হারে শুল্ক চাপিয়ে তিনি যে মারাত্মক ভুল করেছেন এখন সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন। আর সম্পর্ক খারাপ হলে ভারতের মতো একটি বৃহৎ বাজার হারিয়ে ফেলবেন। সেই ভুল আর তিনি করতে চাইছেন না। তাই, কিছুদিন আগে তাঁর মুখে শোনা গেল মোদি-মন্ত্র। বলেছেন, নমো খুব ভালো বন্ধু। ওয়াশিংটন দিল্লির সঙ্গে সব ধরনের আলোচনায় যাবে। ইতিমধ্যে দিল্লি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে। সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি ওয়াশিংটন ডিসির সাদা বাড়ির ভদ্রলোক। যদিও তার এই ব্যাপারে কিছু করার নেই। এখন একটাই রাস্তা – দিন রাত মনে মনে মোদি-মন্ত্রী আউড়ে যাওয়া।
ভারত এখন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন। সেটা বুঝতে পেরেছেন আরও একজন। তিনি বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। তাই, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার প্রতিনিধিদের সফর নিয়ে কোনও আপত্তি তোলেননি। আপত্তি তোলেননি সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। ইউনূস টের পেয়ে গিয়েছেন আমেরিকা আর তার পাশে নেই। নেই আমেরিকার মিত্র দেশগুলি। যে কদিন গদিতে থাকবে, তাকে চরম অস্বস্তি নিয়েই থাকতে হবে। ইউনূসের উপদেষ্টারাও বুঝে গিয়েছেন, তাদের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাই, তদারকি সরকার প্রধান রোম সফরের আগেই বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post