তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ভুলের ভুলভুলাইয়ার ডুবে মরা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। খাল কেটে কুমীর আনলে একজনের যেটা হওয়ার সেটাই হয়েছে। যে সেনার সাহায্যে তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, সেই সেনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন আদায়-কাঁচকলায়। আবার সেনা প্রধানের সঙ্গে বাহিনীর একাংশের সম্পর্ক এখন সাপে নেউলে। যে কোনও সময় বন্দুকের নল তাঁর দিকে ঘুরে যেতে পারে। ঘুরে যেতে পারে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের দিকে। সেটা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বাংলাদেশের বুকে ঘটে গিয়েছে এমন দুটি ঘটনা। প্রথম ঘটনা শেখ মুজিব। তাকেও বেঘোরে বাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনা জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় আসার পর তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইনের শাসন। সব দলের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল তাঁকেও সেনাবাহিনী ক্ষতম করে। এরশাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটা অনেকটা কানের পাশ দিয়ে গুলি বেরিয়ে যাওয়ার মতো। ইউনূস এবং ওয়াকার উজ জামান যদি ভেবে থাকেন, তাদের কিছু হবে না, তাহলে সেটা তাদের অলীক কল্পনা। কেন, সেটা তুলে ধরা যাক। প্রথম কারণ, বাহিনীর একাংশকে বিচারের আওতায় এনে সেনাপ্রধান ওয়াকার সব থেকে বড় ভুল করেছেন। তিনি হয়তো অনুমান করেছিলেন ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তাদের বিচারের আওতায় আনলে বাহিনীর বাকিরা তাঁকে পুষ্পবৃষ্টি করবে।
বৃষ্টি হয়েছে তবে ফুলের নয়, গালাগালির। বাহিনীর একাংশ তাঁর ওপর রীতিমতো চটে রয়েছে। শত হলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধ একটা আবেগ। এতজন সেনাসদস্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে এসে সেনা প্রধান ওয়াকার তাদের সেই আবেগে ধাক্কা দিয়েছেন। তারা সেটা মেনে নেবেন কেন? বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) তো প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। বাহিনী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিচারের আওতায় আনা সেনাসদস্যরা থাকবেন বিশেষ কারাগারে। আর আইসিটি-য়ের চিফ প্রসিকিউটার তাজুল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন, বিচারের আওতায় আনা সেনা সদস্যরা কোথায় থাকবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার বাহিনীর নেই।
সূত্রের খবর, সেনাপ্রধান ওয়াকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস এবং আইসিটি-য়ের চিফ প্রসিকিউটারের সঙ্গে। এই সব বৈঠক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে তিনি তাঁর পদক্ষেপের কথা তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন। আগাম জানিয়েছিলেন বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তাকেও। তাঁরা কিন্তু তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দেন। কিন্তু সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করে ওয়াকার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এখন ঘুমের ঘোর কেটেছে। তাই, তিনি গালভরা সব কথাবার্তা বলছেন। আশ্বাস দিয়েছেন ন্যায় বিচারের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সেনার গোয়েন্দা শাখার এক কর্তা বলেন, ‘সেনাপ্রধান ওয়াকার মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছেন। ’ তাঁর রক্তচাপ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলাম। এই তাজুল ইসলাম একসময় জাময়াতের আইনজীবী ছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধের বেশ কয়েকজনে ফাঁসি কাঠে ঝোলানো। সেটা তিনি যেভাবেই হোক সফল করবেন।
সেনাপ্রধান আরও একটা মারাত্মক ভুল করেছেন। যাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই কর্মরত। তারা বেশ কয়েকটি বাহিনীর প্রধান। তাঁদের স্যরদের এই অপমান তারা সহজে মেনে নেবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post