গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি)। এই নিয়ে বাহিনীতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সবাই এর পিছনে সেনাপ্রধান ওয়াকারের হাত দেখতে পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়ে গিয়েছে মামলার শুনানি। শুনানি শেষে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলাম বলেন, মাবতাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাহিনীর যে সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিচার সেনা আইনে হবে না। এটা স্বাভাবিক। তাহলে এটা ধরে নিলে ভুল হবে না যে কর্মরতদের বিচার হবে সামরিক আইনে। ঘটনা পরম্পরার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এদের সকলকে কিন্তু সেনা আইনের দৌলতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আইসিটির একটি আইনের উল্লেখ করতে হয়। সেখানে একটি আইন আছে, যেখানে বাহিনী এবং বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার কর্তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা যাবে। সেই সঙ্গে বিচারও করা যাবে। সেটা কার্যকর হলে কি সেনা আইন কার্যকর হবে না, এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একাংশ মনে করছে, এই নিয়ে সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে। তর্কের খাতিরে যদিও ধরে নেওয়া যায়, বাহিনীর যে সব কর্তার (প্রাক্তন ও কর্মরত) বিরুদ্ধে গুম খুন, লুঠপাট, ধর্মান্তরন সহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, সেই অভিযোগ সত্য, তাহলে তাদের বিচার সেনা আইনে হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটার আইসিটির প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মিরপুরে পুলিশ যখন ছাত্রদের গুলি করে মারছিল, মাঝখানে সেনাবাহিনী পুলিশকে লক্ষ্য করে শূন্যে গুলি চালায়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বাহিনী হিসেবে তারা তাদের ভূমিকা যথার্থভাবেই পালন করেছে। সব মিলিয়ে এই বাহিনী ছাড়া বাকি সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপারধ সংঘটনে ব্যবহার করেছিল। সুতরাং, এটা সুষ্পষ্টভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ। এর চরম দণ্ড নিশ্চিতের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যে এ ধরনের কোনও হত্যাকাণ্ডের সুযোগ তৈরি না হয়, কিংবা কোনও স্বৈরশাসক নিজের জনগণকে হত্যার দুঃসাহস না দেখান সে জন্য এ বিচার যেন সদর্থক ভূমিকা পালন করে সেটা আমরা আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি। ’
এখন প্রশ্ন হল, কেন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ পরামর্শ দিচ্ছে, প্রাক্তন ও কর্মরত সেনাকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে বাহিনীর বৈঠকে বসা জরুরী সে দিকে আলোকপাত করা যাক। তদারকি সরকার কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে ভোট ফেব্রুয়ারিতে। যদিও সেনাবাহিনী চাইছে ভোটের সময় আরও এগিয়ে নিয়ে আসতে। তারা চাইছে ভোট হোক নভেম্বরে। এই নিয়ে দুইয়ের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও একটা বিষয় স্পষ্ট যে ভোট হচ্ছে। কোনও কোনও মহল মনে করছে, ভোট প্রক্রিয়া বানচাল করতে একটি গোষ্ঠী রীতিমতো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় বাহিনী এবং সরকারের মধ্যে মতদ্বৈততা তৈরি হওয়া একেবারেই ভালো নয়। যে স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী ভোট প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, এই মতবিভেদ তাদের কাছে শাপে বর হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ তুমুল নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একমাত্র ভোটের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারলে যাবতীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post