দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাদের পদ থেকে সরে দাঁডা়নোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশ্ন ওঠার কারণ, বাংলাদেশের একটি দৈনিক তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে যাওয়ার আগে এই দুইয়ের প্রসঙ্গে আলোকপাত করা যাক। সরকারের সঙ্গে এনসিপির যোগাযোগ রক্ষা করার দায়িত্ব এই দুই ছাত্র নেতার ওপর অর্পণ করা হয়। গত ১৬ মাস ধরে তারা দলের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পেশ করেন। কিন্তু ইউনূসের স্বপ্নের জুলাই সনদ ইস্যুতে এখন তাদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক মনে করায় বাংলার এই প্রবাদ – যেমন বুনো ওল, তেমনি বাঘা তেঁতুল। ইউনূস সরকারকে তারা এখন প্রকাশ্যে গদ্দার বলতে শুরু করেছে। গদ্দার বলছে জামায়াতে ইসলামী। এই কিছুদিন আগেও তাদের সঙ্গে ইউনূসের সম্পর্ক ছিল একেবারে যাকে বলে গলাজড়াজড়ি।
জুলাই সনদে এনসিপি ও জামায়াত তাদের তরফে কিছু অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইউনূস সরকার সেই প্রস্তাব কলমের এক খোঁচায় বাতিল করে দিয়েছেন। এমনিতে দুইয়ের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল। সেই ভস্মে ঘি ঢালে ইউনূসের গোঁ। জুলাই সনদে তারা সই করেনি। সই করেনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ( বাসদ) বাসদ (মার্কসবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদ। জুলাই সনদ সইয়ের পর তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এনসিপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত সহ একাধিক দলকে জুলাইয়ের গাদ্দার বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে, তাদের কড়া প্রতিক্রিয়ার পাল্টা দিয়েছেন আপ বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালাম রিফাত। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল এবং আপ বাংলাদেশ জুলাইয়ে গদ্দার। এই গদ্দারিতে সমন্বয় করেছে ড. ইউনূস ও তার অন্তর্বর্তী সরকার। এনসিপি, সিপিবি, বাসদ, জাসদ হল জুলাইয়ের একমাত্র শক্তি। এনসিপির ছাত্র নেতারা কী তাহলে পদত্যাগ করছেন।?’
রাফে সালমান রিফাতের ওই পোস্টে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ লিওন। তিনি বলেছেন, ‘এনসিপির ছাত্র উপদেষ্টা মানে কি রিফাত? ছাত্র উপদেষ্টা গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের প্রতিনিধি। তোমরা তো পুরো প্রশাসন দখলে নিয়েছ।’
বিএনপি কিন্তু অনেক আগেই এই দুই ছাত্র উপদেষ্টা সহ নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিল। গত মে মাসে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারা একটি বৈঠক করে। বৈঠক হয় যমুনায়। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে গিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদত্যাগের ব্যাপারে আমরা লিখিত বক্তব্য জানিয়ে এসেছি। আগেও জানিয়েছিলাম। নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমা, দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা – আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ চাই। এদের জন্য সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই সরকারের ভাবমূর্তি কলুষিত হচ্ছে। অবিলম্বে এদের পদ থেকে বরখাস্ত করা হোক। ’
সংবাদমাধ্যমের তরফে জানতে চাওয়া হয়, সরকার থেকে তাদের কী বলা হয়েছে। জবাবে ওই এনসিপি নেতা বলেন, সরকারের তরফে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই জুলাই সনদ নিয়ে এখনও একটা প্রশ্ন – কতদিন এর মেয়াদ?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post