আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, গুম, হত্যা সহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগ সত্য না নেহাতই গুজব, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব আদালতে। এই প্রতিবেদন তা নিয়ে নয়। প্রতিবেদনের কেন্দ্রে রয়েছেন দুইজন সেনাপ্রধান ওয়াকার এবং তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে ইউনূস জমানার পতন অবসম্ভাবি। সেটা আজ হোক বা কাল। তার ক্ষেত্রে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। যে সেনাবাহিনীকে মই করে তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন, সেই সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও কর্মরতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ইন্টারন্যাশনাল অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। আর এই ঘটনায় বাহিনীতে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান নিজে অসন্তুষ্ট। তিনি তাঁর ক্ষোভের কথা ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন।
এই অবস্থায় তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস গিয়েছিলেন রোমে। অনেকে বলছেন, সেখানে একটি উৎসবে যোগ দিতেই তাঁর ইতালি সফর। তবে নিন্দুকেরা বলছেন, সেফ এক্সিট নিয়ে আলোচনা করতে ইউনূস বিদেশ গিয়েছিলেন। আরও একটি সূত্র বলছে, তিনি যেখান থেকে এসেছিলেন, সেই প্যারিসেই ফিরে যেতে চান। প্রশ্ন হল, ম্যাক্রোঁ প্রশাসন তাকে সেখানে ঢুকতে দেবে কি না। কারণ, পালিয়ে যাওয়া ছাড়া তার আর কোনও রাস্তা নেই। কেন পালাবেন তা নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে। এবার তুলে ধরা যাক নতুন একটি তথ্য।
ক্যান্টমেন্ট, মানে উত্তরপাড়ায় একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠক হয় এ মাসের গোড়ার দিকে। সেই বৈঠকেই তিনি জানিয়ে দেন বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্তা, যাঁর মধ্যে অনেকে অবসরপ্রাপ্ত, তাঁদের আইসিটি-তে তোলা হবে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তদারকি সরকার প্রধান সিপাহী বিদ্রোহের মুখে পড়তে চলেছেন। স্থলসেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামানের নেতৃত্বে নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে চলেছেন। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, তদারকি সরকার প্রধান চাইলে এই ন্যক্করজনক ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কোনও পদক্ষেপ না করে চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে ঘটনা উপভোগ করেছন। ইউনূস ভুলে গিয়েছিলেন ঘরে যদি একান্তই আগুন লাগাতেই হয়, তাহলে ঘরে না থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে আগুন লাগানো উচিত। তদারকি সরকার প্রধান ঠিক উল্টোটা করেছেন। তার ফলে যেটা হওয়ার সেটাই হয়েছে। অথচ এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দায়ী। অনেকে এখন এমন প্রশ্ন করছে, কী এমন হল যার জন্য তদারকি সরকার প্রধান এমন আত্মঘাতী পদক্ষেপ করলেন?
এই প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের একটি বক্তব্যের উত্থাপন করতে হয়। সেনাপ্রধানকে কিছুদিন আগে বলতে শোনা যায়, তারা এবার ব্যারাকে ফিরে যাবে। দেশ শাসনের দায়িত্ব তাদের নয়। তাদের দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করা। এই সব ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি দেখা গেলে তারা স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে মাঠে নামবে। অথচ এই বাহিনীর প্রাক্তন ও কর্মরতাদের একাংশে বিরদ্ধে মানবতাবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। বাহিনী যে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না, সেটা সহজেই অনুমেয়। তারা এখন ক্ষোভে ফুঁসছে। ইউনূসের কফিনে তারা পেরেক পোঁতার জন্য হাতুড়ি খুঁজছে।












Discussion about this post