শেখ হাসিনা-সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫ জন সেনাকর্তাকেও এবার গুম-খুনের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর যা নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে চলছে তীব্র অসোন্তষ ও অস্থিরতা। সে দেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই ২৫ জন সাবেক ও কর্মরত অফিসারই আসলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। তাই বেছে বেছে তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মনোভাবের যে অংশটি রয়েছে, তাঁরাই ইউনূসের আমলে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। পিছন থেকে যাবতীয় কলকাঠি নাড়ছেন এই অক্ষটি। মূলত জামায়তে ইসলামী এবং হিজবুত তেহরির মতো সংগঠনগুলির মতাদর্শে চলা এই সেনা আধিকারিকরা বাংলাদেশ সেনাকে এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে যারা মুক্তিযুদ্ধের মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট, তাঁদেরই টার্গেট করে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আধিকারিকরাই শেখ হাসিনার আমলে সুবিধাজনক পোস্টিং পেয়েছিলেন বলেই জানা যায়। বিশ্লেষকদের দাবি, মূলত আওয়ামী লীগ ও শেথ হাসিনাকে অপদস্থ করতে এবং শাস্তির আওতায় আনতে পরিকল্পিতভাবেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই কর্তাদের অভিযুক্তের তালিকায় আনা হয়েছে। কিন্তু এতে যে বাহিনীর মর্যাদা ও গড়িমায় আঘাত হল, সেটা বুঝেও বোঝেননি স্বাধীনতা বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামাতিরা। মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকারের সঙ্গে থাকা একটা বড় অংশও এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অনেকেই দাবি করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ বিক্ষুব্ধ। এর দুটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হল, এই সেনাকর্তারা দোষ করেছেন কিনা, বা করলেও তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সমাজমাধ্যমে বলাবলি হচ্ছে, হাসিনার আমলের অভিযুক্ত সেনাকর্তারা যদি দোষ করেও থাকেন, তাহলে সেই সময়ের উর্ধ্বতন কর্তারা কেন তাঁদের নিরস্ত্র করেননি। কেন তাঁদের চিহ্নিত করে সেনা আইনে বিচার করেননি। এই ২৫ জন যদি দোষী হন, তাহলে তাঁদের বসরাও দোষী। দ্বিতীয় দিকটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সেটা হল, এই অফিসারদের বাছাই করল কে বা কারা? সেনাবাহিনী যে এদের চিহ্নিত করেনি, বা বাছাই করেনি সেটা স্পষ্ট। সাংবাদিক বৈঠকেই বাংলাদেশের ওই সেনাকর্তা জানিয়েছিলেন, তাঁরা কোনও অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট হাতে পাননি, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত দাবি অনুযায়ী তাঁরা ১৫ জন কর্মরত আধিকারিককে সেনাসদরে রিপোর্ট করতে বলেছিলেন। তাতে সাড়া দিয়ে ১৪ জন আসেন, একজন পলাতক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সেনাবাহিনী এদের বাছাই করতেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী একটা আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গড়া হতো। সেটা হয়ছে বলে সেনাবাহিনী দাবি করেনি। অর্থাৎ, এই সেনাকর্তাদের বাছাই করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে এখানে সেনাবাহিনীকেই উপেক্ষা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশ সেনার ডিজিএফআই বা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগে সাবেক ডিজি ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযুক্তদের উপরেও কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন, সেনাপ্রধান স্বয়ং রয়েছেন। কিন্তু এতজন মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত অথচ তাঁরা জানতেই পারেননি, এটা হতে পারে না। বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে অন্ধকারে রেখে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা কার্যত কেড়ে নিয়েছে, এটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে অমর্যাদাকর। এটাই মূল ক্ষোভ বাহিনীর। আর তাঁদের সব রাগ গিয়ে এথন পড়ছে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বিরুদ্ধে। জানা যাচ্ছে, এই ক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে সেনাপ্রধান কোনও নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভিতরে একটা বড় অংশের আধিকারিকদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। তাঁরা ২২ তারিখের অপেক্ষা করছেন। কিছু একটা এদিক-ওদিক হলেই এই ক্ষোভের আগুন বিস্ফোরিত হবে। বাংলাদেশে ঘটতে পারে আরও একটা সেনা অভ্যুত্থান।












Discussion about this post