জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করলেন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সব শেষে স্বাক্ষর করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তার পরই তাঁর মন্তব্য, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হল। কিন্তু ওই অনুষ্ঠান যেখানে হল, সেখানে ঢুকতেই দেওয়া হল না বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে। অতি উৎসাহী যারা এসেছিলেন, তাঁরা বহু দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখলেন, কেউ কেউ আবার হতাশায় বাড়ির পথ ধরলেন। কিন্তু কেন এই আনন্দের দিনে ব্রাত্য রাখা হল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের?
ঢাকার মানিক মিঁয়া অ্যাভিনিউয়ের বিশাল মাঠে বিশাল বড় মঞ্চ। সামনের সারিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-সহ উপদেষ্টারা। পিছনের সারিতে জামাত-বিএনপির মতো একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। আর মঞ্চের নিচে কেবলমাত্র সাংবাদিক ও কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি। আর তাঁদের পিছনে বিস্তৃর্ণ ফাঁকা মাঠ। নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আর বহু দূরে সংসদ ভবনের বাইরে কিছু বিক্ষিপ্ত মানুষজন সেজেগুজে দাঁড়িয়ে। কেউ কেউ পরিবার-সহ এসেছিলেন। কিন্তু কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সৌজন্যে জুলাই যোদ্ধা। যারা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সংসদ চত্বরে তাণ্ডব চালালেন শুক্রবার বেলা-দুপুর পর্যন্ত। রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহাড়া নিয়েছিল ওই এলাকা। লাঠিচার্জ থেকে শুরু করে কাঁদানে গ্যাসের সেল, সাউন্ড গ্রেনেড চালাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আবার তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়লো জুলাই যোদ্ধারা। এরই মধ্যে হয়ে গেল বহু প্রতিক্ষিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। আর সেখানে অনুপস্থিত থাকলো জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছাত্র সমাজ। বলা ভালো ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি এনসিপি নেতৃবৃন্দ।
এনসিপি ও কয়েকটি বাম সংগঠন বাদে বাংলাদেশের ২৫টি রাজনৈতিক দলের ২ জন করে নেতা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে বলা হয়েছিল, সাধারণ মানুষ যাতে অংশগ্রহন করতে পারেন, সেই কারণে ছুটির দিনে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। সেই মতো প্রস্তাবিত দিনের পরিবর্তে দুদিন পিছিয়ে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মজার বিষয় হল, মূল অনুষ্ঠানে জনসাধারণের প্রবেশাধিকারই ছিল না। নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দূর থেকেই তাঁরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান দেখে ফিরলেন। পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে এসে অনেকই বৃষ্টির কারণে বিপদে পড়েছিলেন। তাঁরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন।
বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সকাল থেকেই কেউ কেউ অতিথিদের জন্য বরাদ্দ আসনে এসে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের আচমকাই সরিয়ে দিতে যায় নিরাপত্তাবাহিনী। এর ফলে সেখানে একটা অশান্তির সৃষ্টি হয়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এই সময় কয়েকটি গাড়ি এবং অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত অস্থায়ী মণ্ডপ ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ক্ষুব্ধ জনতা। এতকিছুর পর বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশের ঐক্যমত কমিশনের চেয়ারম্যান আলী রিয়াজ মঞ্চ থেকে বলেন, সব বাধা কাটিয়ে এই জুলাই সনদকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, এই ঐক্যের সুর নিয়েই আমরা নির্বাচনের দিকে ঝাঁপাবো।
কার্যত বিদেশী নাগরিক আলী রিয়াজ বা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রত্যেকেই ঐক্যের কথা বললেন। অথচ ঐক্যমত হল কই? জামাত স্বাক্ষর করলেও ঐক্যমতে পৌঁছয়নি। এনসিপি-সহ কয়েকটি বাম দল ঐক্যমতে আসেনি। জুলাই সনদের একাধিক বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। আর যারা জানপ্রাণ দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটালেন, সেই সাধারণ মানুষই জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্রাত্য রেখে এটাকে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন করলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post