বাংলাদেশের তদারকি সরকার যে বৈধ নয়, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু একটা কথা স্বীকার করতে হয় বা বলতে হয়, তদারকি সরকারের মাথায় যিনি বসেছেন, সেই মহম্মদ ইউনূস তাঁর একটা মান সম্মান রয়েছে। কিন্তু তাকে এখন নানা প্রান্ত থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী থেকে লাগাতার হুমকি পেয়ে চলেছেন। আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হওয়ায় তাদের তরফ থেকে হুমকি বা কড়া বার্তা আসবে সেটা স্বাভাবিক। তাই বলে বিএনপি তাঁকে হুমকি দেবে। আর সেই ধমক তাকে সহ্য করতে হচ্ছে। বিএনপি ইউনূসের উদ্দেশ্যে যা বলেছে, সেটা হুমকি ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে। দলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তিনি যেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। মানে, আগুন নিয়ে খেলতে বারণ করেছেন।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তদারকি সরকার প্রধান সম্প্রতি একটি জরুরী সর্বদল বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে বিএনপির তরফ থেকে হাজির ছিল দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সূত্রের খবর বৈঠকে সালাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই আপনি (ইউনূস) বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলুন। রাষ্ট্রের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরী।’
আসলে কেন বিএনপি ড. ইউনূসকে সাবধান করে দিলেন? লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, এই জরুরী বৈঠক ডাকা হয় ১৬ অক্টোবর। ততদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-য়ের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটা যে ইউনূসের জমানার পতনকে আরও দ্রুত করবে সেটা বিএনপি বুঝে গিয়েছে। দলের তরফে ইউনূসকে সাবধান করার আরও একটি কারণ হল তাদের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার জিগমিষা। কারণ, আওয়ামী লীগের পর তারাই দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। বিএনপির প্রবল ইচ্ছা সমমনোভাবাপন্ন বাকি দলগুলিকে নিয়ে ঢাকার মসনদে বসা। সেটা যে কোনওভাবেই সম্ভব নয়, তা একপ্রকার বলাই বাহুল্য। কিন্তু অঘটন আজও ঘটে। সে কথার সূত্র ধরে বলতেই হয়, তারা তাদের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হল। কিন্তু টিকবে কতদিন। সেটা পরের কথা।
মনের ইচ্ছা পূরণ করতে হলে সেনাকে সব সময় ঠাণ্ডা রাখতে হবে। বাহিনী কোনও কারণে বেঁকে বসলে তাদের আর ক্ষমতায় বসা হবে না। গোলে মালে ফাঁকতালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করবে। সেটা হলে বিপদ আরও বাড়বে। সেটা তারা বুঝে গিয়েছে। এই যে গত ১৬ মাস ধরে তারা প্রতিশোধস্পৃহায় মেতে উঠেছেন, হাসিনারা ক্ষমতায় আসীন হলে এর পাল্টা যে হবে, তা বলাই বাহুল্য। দিন কয়েক আগে বিবিসি একটি সমীক্ষা চালায়। সেই সমীক্ষায় উঠে আসে গত বছরের থেকে আরও বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে তারা ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। মানে হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে গিয়েছে। সেটা বুঝতে পেরে তদারকি সরকারের অনেক উপদেষ্টা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউ রয়েছেন কোলকাতায়, কেউ দিল্লি, কেউ ভারতের অন্য কোনও শহরে। কিন্তু ইউনূস পালাবেন কোথায়। অথচ তার পালানো ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। কারণ, তদারকি সরকার প্রধান যে নিজের অজান্তেই অভিমুন্যের চক্রগৃহ তৈরি করেছেন, সেখানে একবার প্রবেশ করলে বেরিয়ে আসা যায় না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post