‘তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে’।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এখানে কার কথা বলা হচ্ছে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। তিনি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যদের বিচারের আওতায় এনে তিনি যে নিজের কবর নিজেই খুঁড়ে রাখলেন সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন যে তথ্য এখানে তুলে ধরা যেতে পারে, গোকুলে কে বাড়ছে। তিনি আর কেউ নন অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লা আমান আজমি। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতা ঘুলাম আজমের পুত্র। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে একটি সংবাদমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিগেডিয়ার চাইছেন তাঁর পছন্দ মতো একটা বাহিনী তৈরি করতে। ওই বাহিনীর সাহায্যে তিনি সেনাপ্রধান ওয়াকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলার নীল নকশা তৈরি করছেন।
এই ব্রিগেডিয়ারকে হাসিনা সরকার বরখাস্ত করেছিল। সেটা ২০০৯। ২০১৬-য়ের রাতে তিনি অদৃশ্যভাবে উধাও হয়ে যান। হাসিনা সরকার পতনের প্রায় এক বছর বাদে আবদুল্লা আমান আজমি দেশে ফেরেন। হাসিনা সরকার তাঁর বিরুদ্ধে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তদারকি সরকার প্রধানের আমলে বাহিনী সেই বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে। তাকে দেওয়া হয় অবসরকালী সব ধরনের সুযোগ সুবিধা। এবার সেই এখন বাহিনীর প্রধানকে সরিয়ে ফেলার ছক তৈরি করছেন। সেনাপ্রধান ওয়াকার যে দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছেন, সেটা তিনি ঘুনাক্ষরেও টের পাচ্ছে না। পাবেন যেদিন তাঁর গদি ধরে টান দেবেন এই প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার।
এ কথা আগেও বলা হয়েছিল, সেনাপ্রধান যে কীর্তিটি করেছেন, অর্থাৎ বাহিনীর এতজন সদস্যকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, তা নিয়ে বাহিনীর মধ্যে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, তিনি এই পদক্ষেপের বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে যখন আলোচনা করছিলেন, তখন তার ঘনিষ্ঠমহলের বাসিন্দারা তাদের আপত্তি জানিয়ে দেন। কাটা কাটা কথায় সেনাপ্রধানকে বুঝিয়ে দেন, এটা করলে সেটা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরবে। তাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে জেনারেল ওয়াকার নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বাহিনী বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। যদিও সেনাপ্রধান ওয়াকার মুখে বলছেন, তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে। তারা যাতে ন্যায়বিচার পান তার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। কথায় আছে নিঃশ্বাস আর বিশ্বাস চলে গেলে আর ফেরে না। বাহিনীর প্রধান হয়ে তিনি বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সেই বিশ্বাসঘতা বাহিনীর বাকিরা মেনে নেবেন কেন? একথা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাবে না, তিনি যে এতোদিন ক্ষমতায় রয়েছেন, সেটা তো বাহিনীর একাংশের অদৃশ্য সমর্থনের কারণে। যাদের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে এতোদিন টিকে রইলেন, এবার তিনি যদি তাদের দিকে বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দেন, তাহলে তো বাহিনীতে সিপাহী বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি হবে। আর বাহিনীর সদস্যরা বুঝে গিয়েছেন, জেনারেল ওয়াকার আর তাদের মান সম্মান টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। বাহিনীকে চূড়ান্ত অপমান করেছেন। আর সরকারের সঙ্গে তাঁর যে অস্বাভাবিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটা তো এখন ওপেন সিক্রেট। বাহিনীর যে সব সদস্য জেনারেল ওয়াকারকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন, এখন তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিবমিষা। তারা চাইছে, জেনারেল ওয়াকার জমানার দ্রুত পতন হোক। বাহিনীর হৃতগৌরব যেভাবে হোক ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের পাশে রয়েছেন অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লা আমান আজমি
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post