জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পদ্মাপারে দিনভর দেখা গেল টান টান নাটকীয় পরিস্থিতি। শুক্রবার প্রবল বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল জুলাই সনদ। রয়ে গেল এক রাশ সংশয়। জুলাই সনদ অনুষ্ঠান বয়কট করেছে এনসিপি। তারা যাতে সই করে তার জন্য সরকার তরফে প্রাণান্তকর চেষ্টা চলে। কিন্তু চিঁড়ে ভেজেনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন যে সনদের আইনি ভিত্তি নেই, সেই সনদে তারা সই করবে না। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্যের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি কাগজে সই করেছে।
যেদিন এই সনদ সই হওয়ার কথা, অর্থাৎ শুক্রবার সেদিন দুপুর রাজধানীর ইস্কাটনের এনসিপির শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ’ অনুষ্ঠানে নাহিদ বলেন, ‘গণ অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারে আমলে অনেকগুলি কমিশন হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে শ্রম কমিশন। কিন্তু এই কমিশন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। স্বাস্থ্য কমিশন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। মানুষের জীবনের সঙ্গে যে যে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান জড়িত, যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জড়িত, তার সংস্কার নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। শুধু নির্বাচন কমিশন নিয়ে ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।’
জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে সংশোধিত খসড়া না পেলে সনদে সই করবে না বলে আগেই জানিয়ে দেয় চার বাম দল সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী) বাংলাদেশ জাসদ। এনসিপি যেদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে, একই দিনে এই চার বামদল যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকে। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির আজ বিকেল পাঁচটায় প্রথম আলোকে বলেন, সিপিবিসহ চার বাম দলের নেতাদের কেউ জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা কালই (বৃহস্পতিবার) আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।’
এত দলের আপত্তির পরে শুক্রবার ঘটা করে জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টো এই অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। বেলা ১ টার দিকে নিজেদের জুলাই যোদ্ধ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন অনুষ্ঠানস্থলে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন। তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেয়। মঞ্চের সামনে থেকে তাদের হঠাতে পুলিশ লাঠি প্রয়োগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। সওয়া তিনটে নাগাদ পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তদারকি সরকার প্রধান বলেন, ‘এখানে স্বাক্ষর করলাম সবাই মিলে। সেটা দিয়ে বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। এই পরিবর্তন সম্ভব হল ওই গণঅভ্যুত্থানের কারণে। এটা হল দ্বিতীয় অংশ। সেটা তারা করেছিল বলেই আজকে আমরা এই সুযোগ পেলাম। ’
কী রয়েছে এই জুলাই সনদে? এটা আসলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটা প্রচেষ্টা। সেখানে এমন দুটি আইন রাখা হয়েছে যে আইনে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটি আইন হল – সংবিধান বা অন্য কোনও আইনে ভিন্ন কিছু থাকলে সনদের বিধান প্রাধান্য পাবে। দ্বিতীয় আইনটি হল জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বৈধতা বা প্রয়োজনীয়ত সম্পর্কে কোনও আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। তার মানে চাইলেও কেউ কোনও আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ আদালতে মুখ চিরকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার একটি কুৎসিত নির্লজ্জা প্রয়াস। তদারকি সরকার প্রধান নিজেই নিজেকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে কার্যত উলঙ্গ করে দিলেন। আর এই কাজে তাঁকে সাহায্য করল ২৮টি রাজনৈতিক দল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post