উড়ে এসে জুড়ে বসা মুহাম্মদ ইউনূস যতই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন না কেন বিদেশ সফরে গিয়ে তিনি খুব একটা রাষ্ট্র প্রধানের মর্যাদা পাচ্ছেন না। বাংলায় একটি প্রবাদের মতোই ইঊনূসের অবস্থা, অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকায়ে যায়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি বিগত চোদ্দো মাসে ১৪ টি বিদেশ সফর করেছেন। এরমধ্যে মাত্র দুই তিনটি সফরে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা পেয়েছেন সামান্য কিছু প্রোটোকলও পেয়েছেন। বাকি সব সফরই ছিল তার ব্যক্তিগত। ধান্দাবাজ ইউনূস নিজের ব্যবসায়িক অথবা সাম্মানিক কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এখনও পর্যন্ত জাতিসংঘের দুটি সাধারণ সভায় অংশ নিয়েছেন ইউনূস সাহেব। এই দুটি সফর ছিল আমন্ত্রণমূলক। তাই কূটনৈতিক প্রোটোকল তিনি পেয়েছেন নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে।
মজার বিষয় এই দুটি সফরেই তিনি শতাধিক সফরসঙ্গী নিয়ে নিউইয়র্ক সফরে গিয়েছিলেন। একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউই প্রোটোকল পায়নি। এই দুটি সফর বাদে আরও দুই ডজন বিদেশ সফর করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। কোনও জায়গাতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাননি তিনি। ফ্রান্সে গিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ পাননি ইউনূস। ব্রিটেনে গিয়েও একইভাবে অপমানিত হয়েছিলেন তিনি। এবার ইটালি সফরে গিয়েও হলেন। মুখ পুড়ছে বাংলাদেশের, কিন্তু ইউনূস সাহেব যেন দু-কান কাটা। তাঁর লজ্জা সরম নেই। ইতালির রোম শহরে গিয়ে সেখানকার মেয়রের সাথে দেখা করতে ছুটলেন কয়েকটা ছবি তোলার জন্য। যাতে সেটা দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিভ্রান্ত করা যায়। অথচ ছবিতে দেখা গেল রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি বসে আছেন মধ্যমনি হয়ে, আর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে অন্য একজনের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে বসতে দিয়েছেন পাশের একটি সোফায়। কখনও শুনেছেন কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অন্য কোনও দেশে গিয়ে সেই দেশের কোনও প্রতিমন্ত্রীরও দেখা পাননি। ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ইতালি সফরে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস এরকমই অবস্থায় পড়েছেন। রোমে গিয়ে ইউনূস নিজেই চলে যান সেখানকার মেয়রের অফিসে।
ইতালি যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছিল প্রধান উপদেষ্টা সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। যা নিয়ে বাংলাদেশে শোড়গোল পড়ে যায়। কিন্তু ইতালির প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পাত্তাও দেননি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধান উপদেষ্টাড় সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে লিখেন এমন কোনও দাবি করা হয়নি। অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূস রুম থেকে ফিরলেন একটি দুঃসংবাদ ও একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে। সেটা হল ইটালি এবার সে দেশে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের বের করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে। ফলে সরকারি টাকায় ইউনূসের রোম সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণ।
এ তো গেল মুহাম্মদ ইউনূসের ১৪টি বিদেশ সফর ঘিরে বিতর্ক। এবার আসি অন্য কয়েকটি প্রসঙ্গে। সম্প্রতি গাজা শান্তি চুক্তি নিয়ে মিশরে হয়ে গেল এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা আমন্ত্রিত ছিলেন। জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমন্ত্রিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও। কিন্তু নিজেকে মুসলিম বিশ্বের নতুন বন্ধু হিসেবে মনে করা এবং পাকিস্তান ও তুর্কির ঘনিষ্ট বাংলাদেশের কাউকেই আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি কেউ। আসলে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেকে আন্তর্জাতিক খিলাড়ি হিসেবে দাবি করা মুহম্মদ ইউনূসকে কেউ পাত্তাই দিচ্ছেন না। ফলে তিনি বিদেশ সফর করেন নিজের তাগিদে। মুখ পোড়ে বাংলাদেশের। আর বাংলাদেশের ঝুলিতে আসে লবডঙ্কা।












Discussion about this post