আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ২৪ জন সেনা কর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। যে সমস্ত কর্মকর্তাকে সেনানিবাসে হেফাজতে রাখা হয়েছিল, তাদের দ্রুত বেসামরিক আদালতে হাজির করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষাপটে বুধবার কমিশনের এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানান হয়। কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা সামদানির বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটা গুরুতর অপরাধ সংগঠনের জড়িত হিসাবে অভিযুক্ত এক ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে আটকের কথা শনিবার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আটক সেনা সদস্যদের সেনাবাহিনী কর্তৃক বেসামরিক আদালতে হাজির করানোটা নিরপেক্ষ ফৌজদারি বিচার কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আরও চাপে পড়ে গেল সেনাবাহিনী। তবে কি ক্ষমতা হারাতে চলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান?
জানা যায়, ২৪ সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গুম, খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদিকে রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত এমইএস বিল্ডিং নম্বর ৫৪-কে সাময়িক ভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বার্ধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের মধ্যে ১৫ জনকে সেনানিবাসের অস্থায়ী সেনা জেলে নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের বিচার শুরুর বিষয়টিকে গুম এবং নির্যাতনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করেন জাতিসংঘের মানবধিকার কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা সামদানি। তিনি বলেন, এরমধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের গুম নিয়ে যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হলো, এটা ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার যে আশ্বাস দিয়েছে, তাতে যথাযথ যোগ্য, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ বিচারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। এমনকি তিনি বলেছেন, এই মামলার জন্য সাক্ষীদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
রাভিনা সামদানি আরও বলেন, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাণক্ষয়ী বিক্ষোভের ওপর আমাদের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে একটি সুপারিশ ছিল, তারা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। তাদের আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ঝুলে থাকা বিপুল সংখ্যক মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি মামলায় যথাযথ স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ চাপ বাড়ছে যেমন সেনাবাহিনীর উপর, তেমনই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের জন্য দায় বর্তায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপর। এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই বলছেন, তবে কি সেনাপ্রধান পালিয়ে গেলেন? নাকি অন্য কোনও ক্যান্টনমেন্টে লুকিয়ে রয়েছেন তিনি? গোপন সূত্র অনুযায়ী ওয়াকার নাকি সেফ এগজিট খুঁজছেন! সেটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে সেটা অত্যন্ত মারাত্মক বিষয়। এখন দুটি বিষয়ের দিকে নজর প্রত্যেকের। এক হল, আগামী ফেব্রয়ারীতে যদি ভোট হয়ে থাকে, তবে তার আগে অন্তবর্তীকালীন সরকার গত সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের বিচারের জন্য সঠিক, নিরপেক্ষ বিচার দিতে পারে কিনা। বিচার করবে আদালত। কিন্তু সাক্ষীদের সুরক্ষা বজায় রাখা থেকে বিচারে নিরপেক্ষতা বজায়, অনেকখানি নির্ভর করছে সরকারের উপর। আর দুই হল, সেনাপ্রধান কি সত্যিই পালিয়ে যাবেন, নাকি দেশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন! অবশ্য এর উত্তর দেবে একমাত্র সময়।












Discussion about this post