জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বুধবার তদারকি সরকার মহম্মদ ইউনূস বেশ গালভরা কথা শুনিয়েছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানে গোটা জাতি একটি বড় রকমের উৎসবের শরিক হবে। অধ্যাপক ইউনূসের কথায়, ‘এটা এমন একটা ঘটনা যেহেতু। কিন্তু আমরা যেহেতু ঘটনার ভিতরে আছি, তাই হয়তো অনুভব করতে পারছি না। বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে পারলে তখন একটা বিশাল কর্মকাণ্ড মনে হত। মাসের পর মাস, সপ্তাহের পর সপ্তাহ বৈঠক হয়েছে। এক সময় মনে হয়েছিল এই কাজ অপূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। জুলাই সনদের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তারা প্রত্যেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন। ’ আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলির কাছে তাঁর বার্তা – ‘আপনারা ভেবে চিন্তে নিয়ম-কানুন বের করেছেন। যাতে করে আমরা সবাই মিলে স্বাক্ষর করতে পারি। এটা জাতির জন্য মস্ত বড় সম্পদ হয়ে রইল। সেজন্য আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন।’
আর যেদিন সই হল সেদিন কী ঘটল। জাতীয় সংসদ ভবন হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। জুলাই যোদ্ধাদের পুলিশ নির্বিবাদে পিটিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেই সব ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একসময় লাঠি চালায়, ফাটায় টিয়ার গ্যাসের শেল। পুলিশের লাঠির ঘায়ে বেশ কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন। তবে তাদের সংখ্যা কত, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশের তরফ থেকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
জানা গিয়েছে, আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পুলিশের কাছে খবর যায় জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসূচির কথা। সেই মতো তারা সংসদ ভবন চত্বরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। দুপুর একটার আগে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান মঞ্চে হাজির হন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের আলী রিয়াজসহ কমিশনের সদস্যরা। তিনি এই বলে তাদের আশ্বস্ত করেন যে হত্যার বিচার হবে, জুলাই যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সম্মান আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তারা পাবেন নিরাপত্তা। যদিও তার কথায় বিক্ষোভকারীরা আশ্বস্ত হতে পারেননি। পুলিশ সেখান থেকে তাদের সরাতে গেলে পরিস্থিতি বিগরে যায়।
শনিবার এনসিপির জাতীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এটা আমরা এর আগেও বলেছি। আজকেও পুনর্ব্যক্ত করেছি। যদি এর (জুলাই সনদ) কোনো আইনি ভিত্তি না হয়, এর মূল্য, এর কোনো অর্থ তৈরি হবে না। ফলে আমরা এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিইনি এবং যদি এর আইনি ভিত্তি তৈরি না হয় এটার কেবল আনুষ্ঠানিকতাও থাকবে না, এটি একটি গণপ্রতারণা এবং জাতির সঙ্গে একটি প্রহসন হবে।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘এই ৭২-য়ের সংবিধান যাতে পরিবর্তন না হয়, পুরনো ফ্যাসিস্ট কাঠামো টিকিয়ে রাখতে, অক্ষুণ্ণ রাখতে নানাভাবে চেষ্টা চলছে।’ ৯০-য়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় আমাদের উপলব্ধি ছিল যে লড়াইটা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কেবল নয়, এটা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই। ফলে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান হবে না। বরং, এই সংস্কারের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র জনতার সার্বভৌম অভিপ্রায় হিসেবে প্রফেসর মহম্মদ ইউনূস একটি আদেশ জারির মাধ্যমে এর আইনি ভিত্তি তৈরি করবেন।












Discussion about this post