বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন ওঠার কারণ, বাহিনীর সদস্যদের একাংশকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তা নিয়ে বাহিনীর মধ্যে চূড়ান্ত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেনাকে ঘিরে তিনটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীকে বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। কী সেই নির্দেশ বা বাহিনী এখন কী করবে, কেন করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শেখ হাসিনা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তার আগে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা যাক। বাহিনীর মেরুদণ্ড যে একেবারে গুঁডিয়ে দিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান তা নিয়ে নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কারণে সেনাপ্রধান বেশ মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে সেনাকর্তা ঘন ঘন বৈঠক করছেন। বাহিনীর বাকি সদস্যদের মন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাহিনীর বাকি সদস্যদের সঙ্গে তার রীতিমতো দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দূরত্ব তৈরি হয়েছে সরকার প্রধান ইউনূসের সঙ্গে, বিচার বিভাগের সঙ্গে। এমনকী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটারের সঙ্গে তাঁর চূড়ান্ত মত পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ওয়াকার উজ জামান সব দিক থেকেই চাপে পড়ে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতি শেখ হাসিনা সেনাপ্রধানকে বিশেষ নির্দেশ।
হাসিনা বলেন, ‘আজকে শুধু একটা রাষ্ট্রের মানে, তিনটি প্রতিষ্ঠানই ধ্বংস করেনি। এমনকী আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব যারা রক্ষা করবে তাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হচ্ছে। সিভিল প্রশাসন আপনারা দেখেন। ক্যাবিনেট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে শীর্ষস্তরে আমলাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, হয়রানি, কারওকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সচিবরা কাজ করছে বলেই দেশ চলছে। আজ তাদের মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’
এর আগে ভারতে থেকে হাসিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশ দিতেন। তা নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান তার অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জানিয়ে দেন। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি সাফ জানিয়ে দেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সে দেশে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অবস্থার প্রেক্ষিতে এই প্রথম হাসিনাকে মুখ খুলতে দেখা গেল। তাঁর এই ভাষণ নিঃসন্দহে তাৎপর্যপূর্ণ।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওরা আগে রাতে সেনাবাহিনীর প্রধান তার জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন কারফিউ বজায় রাখতে সেনাসদস্যরা সাধারণ জনগণের ওপর গুলি চালাবে না। বৈঠকের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান হাসিনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান। সেনারা ‘লকডাউন ’ বা কারফিউ মানতে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করতে পারবেন না।
ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠ ১৫ কর্তার গ্রেফতার নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকায় এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় সেনা গোয়েন্দার তিন পদস্থ কর্তা। আর তাতেই ঘুম উধাও হয়েছে মহম্মদ ইউনূসের।
গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মাটিতে পা রাখেন ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা সংস্থার তিন আধিকারিক। তার মধ্যে একজন মেজর জেনারেল পদ মর্যাদার অফিসার। ঢাকায় তাদের তিনদিন থাকার কথা থাকলেও তারা ছিলেন চারদিন। শুক্রবার তারা ঢাকা ত্যাগ করে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post