আচমকাই ঢাকায় চারদিনের সফর করে এলেন ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা শাখার চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মেজর জেনারেল কুন্দন কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে এই ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক ইউনিটের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমনকি তাঁরা বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এও জানা যায়, ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দাদের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশি সেনাকর্তাদের জন্য কিছু উপহারও নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের সবচেয়ে খারাপ অধ্যায়ের মধ্যেই ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাদের এই সফর নিয়ে এমনিতেই বাংলাদেশের জনমানসে শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা-কল্পনা। আর তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বাংলাদেশের তরফে চূরান্ত রাখঢাক। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সফর শেষ হয়েছে এবং এও জানা যাচ্ছে তিনদিনের পরিবর্তে আরও একদিন বেড়েছে এই সফর। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্তা মেজর জেনারেল কুন্দন কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের দুটি গূরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন। একটি হল শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছে লালমনিরহাটের পরিত্যাক্ত বিমানঘাঁটি এবং অন্যটি হল সৈয়দপুর বিমানঘাঁটি। এই দুটি বিমানঘাঁটি ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছে এবং লালমনিরহাটের পুনরীজ্জীবনের তোড়জোড় করছে ইউনূস সরকার। এমনকি চিনের হাতেও এই বিমানঘাঁটি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ফলে ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দারা কেন সেখানে পরিদর্শনে গেলেন, সেটা নিয়েই চলছে তুমুল চর্চা।
এই আবহেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, মুহাম্মদ ইউনূস এবার নিজেই সেফ এক্সিট খুঁজতে শুরু করেছেন। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই নয়া দিল্লির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করছিলেন। এই দাবি বিশ্লেষকরা কয়েকমাস আগেই করেছিলেন। ভারতে আম, ইলিশ ও বিশেষ চাল পাঠানোকেই নয়া দিল্লির প্রতি ইউনূসের নরম বার্তা হিসেবে দেখছিলেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আবহেই ঢাকায় পৌঁছে গেল ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দাদের একটি দল। এটাই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এমনকি ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি সামরিক দিক থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট ও সৈয়দপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করাটাও একটা বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখা যায় বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই জামাতপন্থীদের হাতে। জেনারেল ওয়াকারের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা নেই। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারই কি ভারতীয় গোয়েন্দাদের অনুমতি দিয়েছে? কারণ ভারতীয় গোয়েন্দারা ঢাকা ছাড়ার পরই লালমনিরহাট এবং সৈয়দপুরে ছুঁটে যান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসলে ইউনূস নিজেই এখন পালানোর পথ খুঁজছেন। আর তিনি বুঝে গিয়েছেন নয়া দিল্লির সঙ্গে বিতন্ডায় জড়ালে তিনি আরও ফাঁসবেন। বিশ্বের বহু দেশই এখন তাঁকে পাত্তা দিচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলতে চাইছে এবং সম্পর্ক পুনরায় আগের জায়গায় ফেরাতে চাইছে। ভারতে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশ ছাড়তে হলে একমাত্র ভারতই ভরসা, সেটা তিনি বুঝে গিয়েছেন। তাই হয়তো ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দারা অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সুযোগ পেলেন। আসলে ইউনূস এবার ভারতের কাছেই আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post